
আবারো চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। ডেঙ্গুর হটস্পট হিসাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ছাড়া কক্সবাজারকে ও বাদ দেয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে কক্সবাজারে ১৬৩৯ জন ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত হয়েছে যার মধ্যে ৯১ জন স্থানীয় বাকিরা রোহিঙ্গা( সূত্র সিভিল সার্জন) ।ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপর নজর দিয়েছে সরকার। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহে নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতিবার এ নির্দেশনা জারি করলেও পুরোদমে স্কুল খুলছে আজ ৯ জুলাই থেকে। জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ ডেঙ্গু প্রতিরোধে নির্দেশনা কতটুকু পালন করে নিরাপদ ক্যাম্পাস দিয়ে ক্লাস শুরু করেছে তা জানার চেষ্টা করেছে দৈনিক কক্সবাজার। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান এখনো নির্দেশনা পায়নি। অনেকে আবার পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বলছে উপজেলা ভিত্তিক মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে আজ থেকে।
গত বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) জারিকৃত ৫টি নির্দেশনায় রয়েছে -ডেঙ্গু রোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার বংশবিস্তার রোধে প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ ভবনে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, প্রতিষ্ঠানের ফুলের টবগুলো নিয়মিত পরিস্কার করা, যাতে পানি জমতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আর ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়গুলো প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের জানাতেও বলা হয়েছে শিক্ষকদের। আদেশেটি সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে অধিদপ্তর। মাউশির প্রাশসন শাখার উপপরিচালক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস স্বাক্ষরিত আদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উক্ত পাঁচ দফা নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের কড়াকড়ি আরোপ করতে বলা হয়েছে।
ঢাকা চট্টগ্রামের পর কক্সবাজারে ঝুঁকি
# ৮ উপজেলায় মনিটরিং হবে- ডিইও
# মাউশির ৫ নির্দেশ স্কুল স্কুলে
# আজ থেকে কার্যকরে ব্যবস্থা
নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে কতটুকু প্রস্তুত জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সে বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন- আমরা নির্দেশনা পাওয়ার পর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে ৫ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য চিঠি প্রেরণ করেছি। পাশাপাশি আট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিজিটের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন পাঁচ দফা সচেতনতামূলক কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করে সে ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল সদর উপজেলার ৭৮ জন প্রধান শিক্ষককে নিয়ে একটি মিটিং এ ৫ দফা পরিপত্র পালনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছি। আশা করি কক্সবাজারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের ব্যাপারে কঠোর হবে। এ ব্যাপারে সকল প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। জেলার ৫ শতাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা এ নির্দেশনার আওতাভুক্ত থাকবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং তার প্রস্তুতি বিষয়ে কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ রমজান আলী জানান – ঈদুল আযহার বন্ধেের পর আমরা গত বুধবার স্কুল শুরু করেছি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, সবকিছু ঠিক করে ক্লাস শুরু করেছি। এরমধ্যেই মাউশি থেকে ৫ দফা নির্দেশনা এসেছে সচেতনতার জন্য। গতকাল স্কুলে ৭২ জন প্রধান শিক্ষক নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আমরা পুরোপুরি সবুজ এবং ডেঙ্গুমুক্ত প্রতিষ্ঠান চালাতে প্রস্তুত। আশাকরি আমাদের অভিভাবকদের কোন টেনশন করতে হবে না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রস্তুতি বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি তাপ্তি চাকমা জানান নির্দেশনাটি গত বৃহস্পতিবারে এসেছে। আমি গত বৃহস্পতিবার ছুটিতে ছিলাম। তবে আমি জেলা শিক্ষা অফিসার কে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি। এছাড়াও আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কক্সবাজার যেহেতু ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সেহেতু পৌর কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমাদের নালা নর্দমা পরিষ্কার রাখা উচিত। বাড়ির আশেপাশের আবর্জনা, বাড়ির ভেতরের ফুলের টব সহ ময়লা জমে যাওয়া স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করলে ডেঙ্গু থেকে আমরা অনেকটা রেহাই পাব এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরী।
জেলায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগি বাড়ছে। সদর হাসপাতাল এবং এনজিও কতৃক বিশেষায়িত হাসপাতালে বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সর্বত্র সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার

পাঠকের মতামত