প্রকাশিত: ১৩/০৫/২০১৮ ৯:৫৯ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:৫৯ এএম

নিউজ ডেস্ক::

আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ প্রোগ্রামে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  আগামী ৮-৯ জুন বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে কানাডার কুইবেকে। ৯ জুন হবে সম্মেলনের আউটরিচ প্রোগ্রাম।

এই আউটরিচ প্রোগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আউটরিচে জোটভুক্ত নয়, কিন্তু বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ এমন দেশগুলোর সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর আগে ২০১৬ সালে জি-৭ এর জাপান শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও ইতালি জি-৭ এর সদস্য।

আউটরিচে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গটি উঠবে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, জি-৭ এর নেতারা রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে আরও বেশি জানতে চান। কারণ, তারা প্রথম থেকেই রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে রাখাইন থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে এই রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে; যা সারাবিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা চাই টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাক। কারণ, তারা আমাদের জন্য অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি ডেকে আনছে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হলো। আমরা চাই এর স্থায়ী সমাধান। তিনি বলেন, দায়বদ্ধতার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে হবে। কারণ, দোষী ব্যক্তিরা যদি শাস্তি না পায়, তবে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে।

রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বাণিজ্য ও সমুদ্র সম্পদ নিয়ে জি-৭ এর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাণিজ্য

জি-৭ এর সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই সাতটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার; যা দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য সব দেশই আমাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছি। এখন ধীরে ধীরে এই বাণিজ্য সুবিধাগুলো কমে আসবে। তাদের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য আলোচনা করার ক্ষেত্রে এটি ভালো সময়।

জার্মানি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার; যেখানে ৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; যেখানে রফতানি হয় ৩ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের।

সমুদ্র সম্পদ আহরণ

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার পর সমদ্র সম্পদ আহরণের জন্য বাংলাদেশ জোর দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, এই বিষয়ে আমাদের কোনও জ্ঞান বা প্রযুক্তি নেই যার মাধ্যমে আমরা এই সম্পদ আহরণ করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ভারত, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করেছি। অন্যান্য দেশের কাছেও এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা চাই।

পাঠকের মতামত

টেকনাফের একরামুলকে সরাসরি গুলি করেন কারা, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডে ...

ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই করবেন থানা-উপজেলা নেতারা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী ...

সব বাধা পেরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট ...

বাংলাদেশ-চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা ও করিডোর নিয়ে আলোচনা

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, পরিবহন ...

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ...
Single Page Footer