
আলোচিত হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যদিওবা বেশ কয়েকবার তার গ্রামের বাড়ি হারবাং মহাজন পাড়া ও পরিষদে অভিযান চালিয়েছে। তার অবস্থান জানতে চকরিয়া থানা পুলিশ সোর্স এবং প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছর। তবে স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম হারবাং এলাকাতেই রয়েছেন। তিনি তার দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন করলেও প্রভাবশালী নেতার ইশারায় পুলিশ তাকে ধরছে না। তবে পুলিশ বলছে, যে কোন মুহুর্তে গ্রেফতার হচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান মিরান। তার অবস্থান নিশ্চিত হতে পারলে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ওসি।
এদিকে জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি নতুন করে সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। কারাগারে থাকায় নিযার্তনের শিকার পারভীন বেগমের ছেলে মো: এমরান এবং সিএনজি গাড়ির চালক মোহাম্মদ ছুট্টু জবানবন্দি নিতে পারেনি তদন্তদল।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসনের কাছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক শ্রাবস্তী রায় এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সময় বাড়ানো হয়। নির্ভরযোগ্য সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ভোক্তভোগিরা জানান, চকরিয়া থানায় মামলা হওয়ার তিনদিন পরও এখনো প্রধান আসামী বা জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামলার বাদী ও তার সন্তানরা। দ্রæতসময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।
পারভীন বেগমের আইনজীবি এডভোকেট ইলিয়াছ আরিফ বলেন, কারাগারে থাকা এমরান এবং ছুট্টুর আগামী সোমবার চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের জামিনের আবেদন করা হবে। আশা করি আসামীরা ওইদিনই জামিনে মুক্ত হবেন।
উল্লেখ্য : গত ২১ আগষ্ট শুক্রবার বিকালে হারবাং ইউনিয়নে গরুচুরির অপবাদ দিয়ে মা-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে ২৬ আগষ্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো।
তবে নিযার্তনের শিকার ৩ মহিলাসহ ৫ জনের বক্তব্য নিতে না পারায় তদন্ত কমিটি সময় বাড়াতে বাধ্য হয়। ৫ জনের মধ্যে জামিনে মুক্ত ৩জন মহিলা সদস্যের জবানবন্দি নিলেও বাকি ২জন পুরুষ কারাগারে থাকায় জেলকোড অনুযায়ী কারাফটকে তাদের বক্তব্য নিতে হবে। এজন্য তদন্তের স্বার্থে সময় নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি হারবাং ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম, পরিষদের পুরুষ ও মহিলা মেম্বার, গ্রাম পুলিশ, হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য, প্রতক্ষ্যদর্শী, গরুর মালিক, গণমাধ্যমকর্মী, গন্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষ্য নিয়েছেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার প্রধান আসামী চেয়ারম্যান মিরানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। একইভাবে অপর আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকালে নির্যাতনের শিকার পারভীন বেগম বাদী হয়ে চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চেযারম্যানসহ ৩৪ জনকে আসামী করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত