টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফে স্কুল দপ্তরীকে গলা ও পায়ের রগ কেটে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী সাবেকুন্নাহার।বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে টেকনাফ থানায় উক্ত মামলা দায়ের করেন।মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৪ই অক্টোবর রাত ৮টার দিকে দপ্তরী আব্দুর রশিদ হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলি আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে দায়িত্ব শেষে বাড়িতে রওয়ানা দেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি না ফেরায় তার মোবাইলে করা হয়। সেটি ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এরপর শুরু হয় বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি। তবুও মেলেনা সন্ধান। এর চারদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে কানজর পাড়া এলাকায় নাফ নদীর চরে আইএমও’র লোগো লাগানো বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।
আব্দুর রশিদকে অজ্ঞাত খুনীরা গলা ও পায়ের রগ কেটে নৃশৃংশভাবে হত্যা করে। নিহত আব্দুর রশিদ হোয়াইক্যং দৈংগাকাটা এলাকার জাফর আলমের ছেলে। সে ৪ সন্তানের জনক ছিল।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সুব্রত রায়কে উক্ত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুব্রত রায় জানান, প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে নিহত দপ্তরী বিভিন্ন লেনদেনে জড়িত ছিলেন। সেইসব লেনদেনের বিষয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কিনা মামলার তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে।
আলহাজ্ব আলী-আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল চৌধুরী মুসা বলেন, স্টাফ হিসেবে সে খুব ভাল ছিল তার এই ধরনের নির্মম মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক।
এদিকে স্থানীয়দের ধারণা, রোহিঙ্গারাই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। তাছাড়া আইএমও লোগো দেওয়া যে বস্তায় তার লাশ নাফ নদীতে পাওয়া গেছে, সে ধরনের বস্তা আইএমও রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেওয়ার সময় ব্যবহার করে থাকে। এটিও রোহিঙ্গাদের সন্দেহের অন্যতম কারণ বলে জানান তারা।

পাঠকের মতামত