প্রকাশিত: ২০/০৫/২০১৮ ৩:১২ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:৪৫ এএম

দিদারুল আলম (জিসান) কক্সবাজার।
কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম ঈদগাও বাজারে খাস কালেকশানের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাট চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইজারাদারের যোগসাজসে উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করে স্বাভাবিক নিলাম স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এভাবে উচ্চ আদালতের আদেশের ওই বিষয়টি নিস্পত্তি না করে প্রতি মাসে খাস কালেকশানের নামে গোপনে বাজার ইজারা দিয়ে লুটপাটের আশ্রয় নিচ্ছেন ভূমি কার্যালয়ের কিছু লোকজন। গেল বৈশাখ মাসেই সাড়ে ৮ লাখ টাকা ইজারা দেয়া হলেও সরকারি কোষাগারে শুধুমাত্র তিন লাখ টাকা জমা পড়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে প্রশাসনে। গোপনে মেরে দেয়া ওই টাকা দ্রুত জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানা গেছে। আর এর মধ্যেই চলতি জৈষ্ঠ্য মাসের জন্য ওই বাজার অতি গোপনে ইজারা দেয়া হয়েছে ১৭ লাখ টাকায়। গত ১৪ মে সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে এ ইজারা নিলাম সম্পন্ন হয়। পরদিন গত মঙ্গলবার (১৫ মে) থেকে বাজারের ইজারাদার রমজানুল আলম ঈদগাও বাজার থেকে টাকা উত্তোলন শুরু করেন। তবে ইজারাদার রমজানুল আলম ও ভূমি প্রশাসনের প্রায় সকলেই বাজার ইজারার কথা রহস্যজনক কারণে অস্বীকার করছেন। বাজার ইজারার বিষয়ে জানতে চাইলে রমজানুল আলম বলেন, ‘ইজারার বিষয়ে আমি জানিনা। তবে আমি আজ (গত মঙ্গলবার) ১৫ মে থেকে বাজারের টাকা উত্তোলনে ভূমি অফিসকে সহযোগিতা করছি।’
গেল বৈশাখ মাসের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গেল বৈশাখ মাসে আমি সাড়ে ৮ লাখ টাকায় বাজার ইজারা নিয়েছিলাম। পরে জেনেছি সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে মাত্র ৩ লাখ টাকা। গত ১৪ মে জৈষ্ঠ্য মাসের জন্য আবারও নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দ্বিতীয় নিলাম ডাককারি ছিলাম। কিন্তু রমজান ১৭ লাখ টাকায় বাজারটি এক মাসের জন্য নিলাম নেয়।’
নিলামে উপস্থিত ব্যবসায়ী তারেক বিন মোখতার বলেন, ‘নিলামে রমজান ১৭ লাখ, রফিক সাড়ে ১৫ লাখ ও রাজ্জাক সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ঘোষনা করে। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা রমজানকে বাজার ইজারা দেয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাজারের দর বেশি হওয়ায় আমরা আর দর না বাড়িয়ে চলে আসি।’
উচ্চ আদালতে রিটকারি রাশেদুল হক চৌধুরী রিয়াদ বলেন, ‘জৈষ্ঠ্য মাসের বাজার ইজারার নিলামে আমার লোক উপস্থিত ছিল। কিন্তু যে দর উঠেছে তাতে লোকসান হওয়ার ভয়ে আমরা আর দর বাড়ায়নি।’ রিটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করি। কিন্তু উচ্চ আদালত আমাদের আবেদনটি নিষ্পত্তি করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ৩০ দিনের সময় দিলেও তা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না।’
বাজার ইজারার বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ঈদগাও বাজারটি নিলাম নয়, খাস কালেকশানে চলছে। এটি স্থানীয় তহসিলদারই দেখছেন। তিনিই এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।’ সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে ইজারা নিলাম হওয়া এবং গেল মাসে তিন লাখ টাকা রাজস্ব জমা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার অফিসে নিলাম হয়নি। তবে অনেকেই ইজারা নিতে দরকষাকষির জন্য আমার অফিসে এসেছেন। আর গেল মাসে সাড়ে ৮ লাখ টাকায় সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। কম দেয়ার কোন সুযোগ নেই।’
উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে বাজারের খাস কালেকশানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঈদগাও ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার জেসমিন আকতারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘ঈদগাও বাজারের বিষয়টি আমি দেখছি না। এটি এসি ল্যান্ড ও তহসিলদার দেখছেন, তারাই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই।’ উচ্চ আদালতে রিটকারির দরখাস্ত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি আমরা দ্রুত নিষ্পত্তি করবো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ করছি। এছাড়া এসব নিষ্পত্তি করে দ্রুত বাজার নিলামের ব্যবস্থা করবো।’

পাঠকের মতামত

Single Page Footer