প্রকাশিত: ১৩/০৫/২০১৮ ৭:৪০ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৩:০২ এএম

নিউজ ডেস্ক::
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনিতে গত সাড়ে চার বছরে বিদ্যুিবভ্রাট হয়েছে কমপক্ষে ৫০০ বার। এ কারণে খনির ভূগর্ভে থাকা শ্রমিকদের জীবন বারবার হুমকির মুখে পড়েছে।

সেই সঙ্গে দামি যন্ত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একাধিক চিঠি দিয়েও প্রতিকার পায়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।
আন্তর্জাতিক খনি আইন অনুয়ায়ী, খনিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। আর এই ব্যবস্থা নেবে খনি কর্তৃপক্ষ মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল)। এই মর্মে চুক্তিতে উল্লেখও রয়েছে। খনির কাজ গতিশীল রাখা ও এখানে কর্মরত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়।

খনি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ৭ মে রাত ৯টা ১২ মিনিট থেকে ৯টা ২৫ মিনিট এবং রাত ১১টা ৩৬ মিনিট থেকে ১১টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। এ কারণে খনিতে কর্মরত কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা হুমকির মধ্যে পড়েন।

জিটিসির সূত্রে জানা যায়, ওই দিন ভূগর্ভে পাথর উত্তোলনের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিস্ফোরণের পর হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়।

ভেতরে অবস্থান করা প্রায় দেড় শ শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞের জীবন নাশের আশঙ্কা দেখা দেয়। কারণ, বিস্ফোরণের পর খনির অভ্যন্তরে বিষাক্ত গ্যাসে ভরে যায়। বিদ্যুৎ থাকলে ভেন্টিলেটর (বায়ু চলাচল পথ) দিয়ে গ্যাস অপসারণ করা সম্ভব হয়। অন্যথায় ভূ-অভ্যন্তরে বিষাক্ত গ্যাসে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিকদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে খনি শ্রমিকরা জানান, খনির ভূগর্ভে গ্যাস থাকে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভেন্টিলেটর বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। জেনারেটর চালিয়ে শুধু আলোর ব্যবস্থা করা যায়; কিন্তু এতে লিফট বা অন্য কোনো যন্ত্র চালানো যায় না। এ ছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করলে খনির উপরিভাগ ও ভূগর্ভে স্থাপিত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাঁরা আরো জানান, খনির অধিকাংশ যন্ত্রপাতি কমপ্রেসড বাতাসের মাধ্যমে চলে। হঠাৎ দুই-পাঁচ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদন নেটওয়ার্ক সচল করতে ৩০-৪০ মিনিট লাগে। বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন না থাকায় প্রায়ই এমনটা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জিটিসি সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বার বিদ্যুিবভ্রাটের কবলে পড়তে হয়েছে। এ কারণে সাড়ে চার বছরে নষ্ট হয়েছে ২০ কর্মদিন। গড়ে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন হিসাবে পাথর উত্তোলন কম হয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন। যার বর্তমান দাম সাড়ে চার কোটি টাকারও বেশি।

জিটিসির মহাব্যবস্থাপক জামিল আহম্মেদ বলেন, ‘শুধু কর্মঘণ্টা দিয়ে এই ক্ষতি নিরূপণ করা যাবে না। বিদ্যুিবভ্রাটের কারণে জিটিসির অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বারবার চিঠি দেওয়ার পরও খনি কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমজিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব নাখোশ হয়ে বলেন, ‘শর্ত অনুযায়ী জিটিসি গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিলে তা খনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দিতে হবে। খনি উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের মধ্যে ভালো সমঝোতা থাকতে হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে; কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মতো শতভাগ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ঝড়-বাতাসে অনেক সময় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তার পরও আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আসলে কতবার বিদ্যুৎ গেছে, জিটিসির দাবি কতটা যৌক্তিক, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ’

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ...
Single Page Footer