ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৮/০১/২০২৫ ৮:৫১ এএম

আমার কেউ নেই। একমাত্র সম্বল ঘরটিও আগুনে পুড়ে গেল। ঠান্ডায় রাতে কীভাবে ঘুমাব। কোনো শীতবস্ত্র নেই। খাবার নেই। মাথা গোঁজার ঠাঁই জোটেনি এখনও। দিনে পোড়া ঘরের ওপর বসে থাকছি, রাত হলে কোথায় যাবো। সকালে শুধু এনজিও সংস্থার দেয়া শুকনো বিস্কুট খেয়ে আছি।

ঠিক এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রোহিঙ্গা নারী মরিয়াম। কক্সবাজার টেকনাফ নয়াপাড়া মুছনী রেজিস্টার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আয়েশা সিদ্দিকা (৫) নামে এক রোহিঙ্গা শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১০০ বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছে মরিয়ামের মতো ৫০০ মানুষ।

বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপাড়া মুছনী রেজিস্টার ক্যাম্পের জি-২ ব্লকের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত ও নাশকতামূলক বলে অভিযোগ করেছে রোহিঙ্গারা।

এ বিষয়ে টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত মুছনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-২ ব্লকের মাঝি ওমর ফারুক বলেন, রাতে আমার ঘরের পাশ থেকে হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠে। খুব দ্রুত সব ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন লাগার আগে আমাদের ব্লকের অনেকের ঘরের বাইরে দরজা কে বা কারা বন্ধ করে দিয়েছে ছিল। এতে বোঝা যায় কেউ ইচ্ছে করে ক্যাম্পে আগুন লাগিয়েছে। কয়েকদিন আগে থেকে ক্যাম্পে আগুন লাগানো হবে বলে অনেক রোহিঙ্গারা শুনেছেন বলে দাবি করেন।

সরেজমিনে আশ্রয়শিবির ঘুরে দেখা যায়, টেকনাফে নয়াপাড়া পুড়ে যাওয়া খোলা আকাশে বসে আছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। বিকেল হওয়ার সাথে সাথে শীতে সেখানে বসে কাঁপছে তারা। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ওপর বসে কান্না করছিল মরিয়া খাতুন।

আগুনে পুড়ে নিহত শিশুর বাবা ইব্ররাহিম বলেন, ‘আগুন লাগার সাথে সাথে সবাইকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়ি। এরপর মেয়েকে আর খোঁজে পায়নি। পরে জানতে পারি মেয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে মারা গেছে। আগুন ধরেনি, ইচ্ছে করে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। এটির সুস্থ বিচার চাই।

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ছৈয়দ নুর বলেন, ক্যাম্পের কিছু লোক বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করে ভাগাভাগিতে গড়মিল হলে তখন ক্যাম্পে এসে আমাদের উপর নির্যাতন করে। এদের থেকে বাঁচতে আমরা ৩০ জন ৪০ জন মিলে রাতে আমাদের ক্যাম্প পাহারা দিয়ে থাকি। কয়েকদিন আগে সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প থেকে লোকদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।আমরা একজন সন্ত্রাসীকে ধরে প্রশাসনকে হস্তান্তর করেছি। এরপর গত তিনদিন আগে ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। সেটি এখন বাস্তবে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ক্যাম্পে আগুন ধরেনি আগুন লাগিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

বিষয়ে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ কাউসার সিকদার বলেন,অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শতাধিক বসতঘর ও নানা স্থাপনা ভস্মীভূত এবং এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনাটি পরিকল্পিত কিনা সেটি তদন্ত করা হচ্ছে । আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। পাশাপাশি ক্যাম্পে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য এপিবিএন পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ইনচার্জ (যুগ্মসচিব) আবদুল হান্নান বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন করে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে দাতা সংস্থা। খুব দ্রুত নতুন ঘরে ঢুকতে পারবে। তাদের প্রাথমিকভাবে শীতের কম্বল, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল দেওয়া হচ্ছে। আগুন লাগার ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে।

পাঠকের মতামত

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল

কক্সবাজারে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলার তালিকাভুক্ত ১৮০টি ...

টেকনাফেে একরামুল হত্যা,হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর

২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে বহুল আলোচিত কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় ...

১২ কারাগারে জায়গা নেই, ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দিকক্সবাজার কারাগারে ঠাঁই নেই, ৮৩০ আসনের বিপরীতে বন্দি ২,৮৮৫

চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি থাকায় চরম চাপের মধ্যে রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। ...

কুরআন হিফজে সাফল্য: টেকনাফে ৩ শিক্ষার্থী পেল সম্মাননা

কক্সবাজারের টেকনাফে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘তানযিমুল আফনান টেকনাফ’-এর উদ্যোগে হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন ...