প্রকাশিত: ১১/১০/২০১৭ ৮:০৭ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১২:২৫ পিএম

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ::

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সামাল দেয়ার আগেই আন্দোলনমুখী করে তোলা হচ্ছে। নতুন করে দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে না করতেই উখিয়া-টেকনাফে শুরু হয়ে গেছে রোহিঙ্গাদের আন্দোলন। তারা কখনও স্বদেশে ফিরে যাবে না যতক্ষণ তাদের দাবিদাওয়া পূরণ না হয়। দলে দলে লাখ লাখ রোহিঙ্গার আগমনে তাদের আশ্রয়, নিরাপত্তা, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দিতে সরকার রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এক দেশ থেকে পালিয়ে এসে আরেক দেশে যেখানে আশ্রয়স্থল খোঁজে শান্তিতে বসবাস করার কথা সেখানে একমাসের মাথায় রোহিঙ্গারা আন্দোলনমুখী হওয়ার পেছনে কাদের ষড়যন্ত্র এবং কারা এদের পেছনে অর্থ ব্যয় করছে, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গারা আন্দোলনের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্টে ডিজিটাল ব্যানার টাঙ্গিয়েছে। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা এলাকাসমূহে, ক্যাম্পের ভেতরে-বাইরে ও প্রধান সড়কের পাশে এসব ডিজিটাল ব্যানারে ছেয়ে গেছে। কিন্তু শরণার্থী আইন অনুসারে লোকালয়ে ব্যানার টাঙ্গানো ও সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও একটি মহলের ইশারায় রোহিঙ্গা ক্যাডাররা এসব ব্যানার টাঙ্গিয়েই চলছে।

ডিজিটাল ব্যানারের অর্থ আসছে কোত্থেকে

সূত্র জানায়, টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা এখনও আসছে। ইতোপূর্বে যারা এসেছেন তাদের অনেকে এখনও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সকলের নিবন্ধনও হয়নি। অনেকের ন্যূনতম মাথা গোঁজার ঠাঁইও হয়নি। এমতাবস্থায় তাদের ২১ দফা দাবি বাস্তায়নের ব্যানার প্রচারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। কথিত ‘রোহিঙ্গা অধিকার প্রতিষ্ঠা কমিটি’ নামে ২টি ছবি ও লোগো সংবলিত প্রচারিত এসব ব্যানারে বাংলা ও ইংরেজী দুই ভাষায় আবেদনে সকল রোহিঙ্গা জনগণ বলে ২১ দফা দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। ওসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যাবে না বলে জানান দিয়েছে। সচেতন মহল জানায়, ভিটাবাড়ি সব হারিয়ে যেখানে এসে আশ্রয় ও ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দিনযাপন করছে সেখানে বিশাল বিশাল ডিজিটাল ব্যানার ছাপানোর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা রোহিঙ্গারা পাচ্ছে কোথায়? নিশ্চয় এ ব্যানার রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোন গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের আন্দোলনমুখী করে তোলার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা আল ইয়াকিন ও আরএসওর ক্যাডাররা রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের বাহনায় কোটি কোটি বিদেশী অর্থ লুটেপুটে আত্মসাত করতে এই কা- করে চলছে। অচেনা লোকজনকে ওসব ব্যানারের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে দেখেছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, রোহিঙ্গা আরএসও জঙ্গীদের চিহ্নিত করে পাকড়াও করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এসব রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গারা তো পড়া-লেখা জানে না। সাবলীল ভাষায় বাংলা ও ইংরেজীতে এত সুন্দর করে ব্যানার লেখার স্থানও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাছাড়া হাজারো ব্যানার ছাপানোর কাজে লক্ষাধিক টাকা তারা পাবে কোথায়? সম্প্রতি মিয়ানমারের মন্ত্রী ঢাকায় এসে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে নিয়ে যাবার আশ্বাস দেয়ার পর রোহিঙ্গা জঙ্গীরা ক্যাম্প-বস্তি ও দর্শনীয় জায়গায় শত শত ব্যানার টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। দেশের বিভিন্নস্থানে ঘাপটি মেরে থাকা রোহিঙ্গা নেতারা (আরএসও জঙ্গী) সম্প্রতি নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সহজে মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার জন্য মগজ ধোলাই করছে। প্রত্যাবাসন না হওয়ার জন্য উস্কানি দিচ্ছে। ত্রাণের কাজে আসার বাহনায় ছদ্মবেশে ওইসব রোহিঙ্গা জঙ্গী প্রায় সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘুর ঘুর করে। তারা হয়ত এসব ব্যানার লাগিয়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের উস্কে দিচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা রোহিঙ্গাদের উস্কানি দিয়ে বলছে, দেশী-বিদেশী এনজিও রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষিত করে তোলার, অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ, মিয়ানমারে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশে রাখার বন্দোবস্ত করছে। কিছু কিছু এমনকি সকল রোহিঙ্গাকে বিদেশেও নিয়ে যাবে। দরকার হলে এখানে মৃত্যু হবে, তারপরও মিয়ানমারে ফিরে যেতে কেউ রাজি না হওয়ার উস্কানি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। ক্যাম্পে আশ্রিত গরিব দিনমজুর রোহিঙ্গারাও ধারণা করছে, মিয়ানমারে নানা সমস্যার চেয়ে এখানে বসে বসে হরেক রকমের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাই উত্তম। অভিযোগ উঠেছে, রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের দোহাই তুলে একজন সংসদ সদস্যের পরিচালনাধীন ফাউন্ডেশনের নামে ইতোমধ্যে একাধিকবার বিদেশী ত্রাণসামগ্রী এনেছে ওই ষড়যন্ত্রকারী চক্র। ফাউন্ডেশনের পরিচালককে ত্রাণের কমিশন দিয়ে আনা ওসব বিদেশী ত্রাণ দেয়ার বাহানায় রোহিঙ্গা নেতারা প্রবেশ করছে রোহিঙ্গা বস্তি-ক্যাম্পসমূহে। উস্কে দিচ্ছে রোহিঙ্গা মাঝিদের। মাঝিরা সন্ধ্যায় ও রাতে মসজিদে অথবা রোহিঙ্গা ব্লকে মিটিং করে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে না যাবার জন্য জানান দিয়ে চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় লাগানো এসব ব্যানার উচ্ছেদ করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। উখিয়ার মানবাধিকার কর্মী মোসলেহ উদ্দিন মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে বলেন, মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের এখানে আশ্রয় দেয়াটা আমরা মেনে নিয়েছি। তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করা হচ্ছে। সথাসাধ্য সম্ভব তাদের সহযোগিতাও দিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। তবে ভিন দেশ থেকে অনুপ্রবেশ ও এখানে এসে রোহিঙ্গারা আন্দোলনমুখী হবে, সেটা কখনও মেনে নেয়া যায় না। রোহিঙ্গারা ‘আমাদের ২১ দফা মানতে হবে’ বলে যেসব ব্যানার টাঙ্গিয়েছে, এটা তো ভাল লক্ষণ নয়। টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হাফেজ মোঃ আয়ুব বলেন, ঘুম থেকে উঠে সকালে দেখি আমার বাসার বাইরেসহ একাধিক ব্যানার। এসব ব্যানার কে বা কারা লাগিয়েছে, সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাস্টার মুরব্বি আবদুল জব্বার এবং মাস্টার আবদুল মতলবও একই কথা বলেন। ওসব ব্যানারে লেখা হয়েছে ‘আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই, আমাদের অধিকার আমরা চাই, মারামারি নয়, হানাহানি নয়, খুনাখুনি নয়, অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই’।

অপরদিকে বড় বড় ওসব ডিজিটাল ব্যানারে ইংরেজী ও বাংলা দুই ভাষায় লেখা ২১টি দাবি হচ্ছেÑ সকল রোহিঙ্গা জনগণকে বাধ্যতামূলক নাগরিক অধিকার দিতে হবে ও বার্মা সরকারের পক্ষ থেকে কোন শর্ত না দিয়ে আমাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে। সুত্র,জনকন্ঠ

পাঠকের মতামত

নিজের সম্মানির টাকা মেধাবী শিক্ষার্থীকে দিলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া নিজের প্রাপ্ত সম্মানির টাকা আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রদান করলেন ...