প্রকাশিত: ২৬/০১/২০১৭ ৩:১১ এএম
নিউজ ডেস্ক::
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওর জাগিরপাড়ার নিজ বাসা থেকে অপহরণের অভিযোগে সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা ব্যবসায়ীর খোঁজ মিলেছে। তিনি গত তিনদিন ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরিণ রয়েছেন। অপহরণ নয়, শাহবাগ থানায় দায়ের করা একটি মানবপাচার মামলায় তাকে র‌্যাবের একটি বিশেষটিম আটক করে ঢাকা হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
কিন্তু গত ১৮ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টার দিকে তাকে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয় বলে কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাগির পাড়ার মৃত নজির আহমদের ছেলে নুর হোসেন ঢাকার একটি বেসরকারি জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের হয়ে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করে আসছিলেন। নিজে উক্ত প্রতিষ্ঠানের হয়ে বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া করতে গিয়ে একসময় প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী হিসেবে কাজ করা শুরু করে। তার মাধ্যমে এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক উক্ত এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ পাড়ী দিতে প্রসেসিংয়ের টাকা জমা করেছিল। তবে তার হাত ধরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের হয়ে এ পর্যন্ত কেউ বিদেশ যেতে পেরেছেন কিনা তার সঠিক তথ্য কেউ দিতে পারেননি। কিন্তু দেশব্যাপী উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ভিসা, বিমান এবং প্রসেসিং খরচ বাবদ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা জমা নিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। এতে অনেক হতদরিদ্র আরও ফতুর হয়ে পথে বসে।
অবশেষে এক ভূক্তভোগী উক্ত প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ ও কর্তাব্যক্তিদের আসামি করে ঢাকর শাহবাগ থানায় কিছুদিন আগে একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় অপরাপরদের সঙ্গে ঈদগাঁওর কথিত নুর হোসেনকেও আসামি করে। এ  মামলার সূত্র ধরে ১৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে র‌্যাবের একটি টিম তার বাড়িতে আসে এবং তাকে ডেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনেই গাড়ীতে তুলে নিয়ে যান। তাকে পরিবহণ করা সাদা রঙের নতুন মাইক্রোবাসটির নম্বর ছিল ১১-০১৯৬। এতে র‌্যাবের ৮-১০ জন সদস্য ছিল।
এরপরও সন্দেহের দোলাচলে থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে সাধারণ ডায়েরি করেছিল তার ছোট ভাই আবদুল্লাহ।
তার অপর ছোট ভাই বদিউল আলম আকাশ বলেন, খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আমরা জানতে পারি তাকে অপহরণ নয়, আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে নুর হোসেনকে দেখতে তিনি ঢাকাস্থ র‌্যাব সদর দফতর ও কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। তার সঙ্গে কথা বলে এখন জামিনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকায় চটপটি ব্যবসায়ী নুর হোসেনকে অপহরণ নিয়ে ব্যবসায়ীসহ সব মহলে নানা প্রশ্ন ও আতংক বিরাজমান ছিল। কি কারণে এমনটি হল এর হিসাব মেলাতে পারছিলেন না কেউ। নানা জল্পনা-কল্পনা ডাল-পালা বিস্তার করছিল।  অবশেষে কেন্দ্রীয় কারাগারে তার অবস্থান পেয়ে কথিত অপহরণ নাটকের অবসান হল।

পাঠকের মতামত

প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে প্রান্তিক এনজিও’র প্রতিবাদ

স্ত্রী-কন্যা ছেড়ে সহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক- প্রান্তিক এনজিও কর্মকর্তা শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদ প্রসঙ্গে। ...

‘কুকি স্টেট’ প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সহিংসতা কেএনএফের

বান্দরবানের থানচি-রুমা থেকে রাঙামাটির মিজোরাম সীমান্তবর্তী সাজেক পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলকে নিজেদের পূর্বপুরুষের আদি ভূমি মনে ...

নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামানের পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা সহায়তা

পাহাড় কর্তনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের ...