প্রকাশিত: ২৬/০৮/২০১৬ ৯:১৩ পিএম

unnamed-79-550x364ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার: কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় বার্মিজ মার্কেট তার নিজস্ব ঐতিহ্য হারাচ্ছে। রাখাইন হস্তশিল্পের নানা পণ্য, মিয়ানমারের পণ্যের কারণে এর জনপ্রিয়তা বাড়লেও এখন ওই সব পণ্য নেই বললেই চলে। শিল্পায়নের এ যুগে মিয়ানমারের পণ্যের চেয়ে নানা দেশীয় পণ্য, ভেজাল পণ্য গ্রাস করেছে এর নিজস্ব ঐতিহ্য। যা নিয়ে স্বয়ং চিন্তিত বার্মিজ মার্কেটের প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও।

বার্মিজ মার্কেট কর্মকর্তা বয়স্ক রাখাইনের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় বার্মিজ মার্কেটের সূচনা ১৯৬২ সালে। টেকপাড়া এলাকার উনাং রাখাইন নামের এক নারীর নিজস্ব বাড়ি ছিল টেকপাড়া বার্মিজ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। ওই নারী তার নিজের বাড়ির সামনে ছোট পরিসরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রাখাইন হস্তশিল্পের কিছু মালামাল বিক্রি করতে শুরু করে। যেখানে ছিল চাদর, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, চুরুট (সিগারেট), পুরুষদের লুঙ্গি, নারীদের থামি আর টুকিটাকি জিনিস পত্র। কক্সবাজার বেড়াতে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকরা ওখানে ভিড় করতেন আর কিনতেন এসব পণ্য। তখন থেকেই শুরু হয় বার্মিজ মার্কেটের যাত্রা। পর্যটকদের চাহিদার কারণে ওই নারী প্রথমে ‘কক্সবাজার কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে বাণিজ্যিকভাবে স্টোর তৈরী করার উদ্যোগ নেন। এরপর একে একে তৈরি হতে থাকে টিন টিন বার্মিজ স্টোর, রাখাইন স্টোর, উমে স্টোর, নূরানী এম্পোরিয়াম, বিবি ফ্যাশন ডায়মন্ড স্টোরসহ নানা দোকান। সূচনার দিকে ওই মার্কেটে ২০ টির কম দোকান থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়ে ৩ শতাধিক।

বার্মিজ মার্কেটের ব্যবসায়ি রাখাইন নারী উছেং রাখাইন জানান, শুরুতে এসব দোকানে বার্মিজ কোন পণ্য ছিল না। পরবর্তীতে বার্মিজ পণ্য লুঙ্গি, থামি, সেন্ডেল, আচার, বাম জাতীয় ভেসজ, স্নেখা (এক প্রকার প্রসাধন), কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, চন্দন, পাখা, হরেক রকমের বার্মিজ আচার, হাতির দাঁতের তৈরী তৈজসপত্র, কানের দুল, চুড়ি, কুটির শিল্প, কাঠের ফ্রেম ও গহনা বাক্স ক্রেতা আনা হত। যা পর্যটকদের ব্যাপক আকর্ষণ করতো। তখন থেকে এসব মার্কেটের সব দোকান নারী দ্বারা পরিচালিত হত। কিন্তু বর্তমানে বার্মিজ পণ্য কমে গেছে।

ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী প্রিয়ং রাখাইন জানান, এক সময় সব দোকান নারীরা পরিচালিত করলেও এখন অর্ধেক পুরুষ পরিচালিত। এতে নিজস্ব ঐতিহ্য হারাচ্ছে স্বাভাবিক। একই সঙ্গে বার্মিজ পণ্যের চেয়ে দেশীয় পণ্য বেশি এসব মার্কেটে।

বার্মিজ মার্কেটে শুটকির দোকান মার্কেটের ঐতিহ্য হারানোর আরেক ধাপ বলে মন্তব্য করেছেন রাখাইন নারী থøাইলং রাখাইন।

পর্যটক ক্রেতা মাহফুজা খানম জানান, নামে বার্মিজ হলেও এখানে অনেক পণ্যই বাংলাদেশের তৈরী। তবে ক্রেতাদের ভালো মতো দরদাম করে এসব পণ্য কেনা উচিত। এখানে এমন জিনিস আছে যা ঢাকা বা চট্টগ্রামের বিভিন্ন মার্কেটে আরও কম দামে কিনতে পাওয়া যায়। বার্মিজ মার্কেটের সুনাম নষ্ট করতে এর চেয়ে বেশি উদাহরণ আর হতে পারে না।

পাঠকের মতামত

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...

রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...
Single Page Footer