
হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া::
ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসছে উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড উপ-নির্বাচনের দিনক্ষণ। মেজর (অব) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলার বরখাস্তকৃত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের হাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মেম্বার বখতিয়ার আহমদ। গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাতে উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার বখতিয়ার আহমদ ওসি প্রদীপের হাতে নিহত হওয়ার পর এই পদটি শূন্য হয়ে যায়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আসন শূন্য হওয়ার আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই শূন্য পদে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে এই শূন্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় খুব বেশি নেই। আগামী ২০ অক্টোবর এই শূন্য পদে উপ-নির্বাচন। উখিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইরফান উদ্দিন বলেন, (২৩ সেপ্টেম্বর) শূন্য পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। এরা হলেন, সাবেক মেম্বার আব্দুল হক, মরহুম উখিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক নুরুল হক, মরহুম বখতিয়ার আহমদের স্ত্রী শাহিনা আক্তার, তার ছেলে হেলাল উদ্দিন, কবির আহমদ, মোঃ আব্দুল কাদের, মুজিবুর রহমান, জাহাঙ্গির আলম ও রাশেদুল হক। আগামী ৩ অক্টোবর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিন ধার্য করা হয়েছে। তিনি আগামী ২০ অক্টোবর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এদিকে এই উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। সাবেক মেম্বার আব্দুল হক বলেন, এলাকার মানুষের সুখে-দুখে আমি ছিলাম। এলাকার জনগণ আমাকে ভালবেসে একবার নির্বাচিত করেছিল। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমি তাদের সাথে আছি। আমি তাদের কাছে পরিক্ষিত একজন সেবক। তাদের পরামর্শে আবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি। উখিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক নুরুল হক বলেন, গ্রামের মুরব্বিদের সাথে পরামর্শ করে আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানকার ভোটাররা অত্যন্ত সচেতন। তারা দেখে শুনে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মরহুম বখতিয়ার আহমদেরে সুযোগ্য ছেলে হেলাল উদ্দিন বলেন, ওসি প্রদীপ আমার নিরহ বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমার বাবা ছিল একজন জনদরদি পরোপকারি একজন ভালো মানুষ। আমি আমার বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে জীবনের প্রথম নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে বাবার স্বপ্ন ও এলাকার মানুষের পাশে থেকে আজীবন সেবা করে যাব। অন্যান্য প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ না হলেও তারাও জয়ের জন্যে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে থেকেই প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন ভোটাররা কাকে বেচে নিচ্ছেন এবং কে হবেন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার তা সময় বলে দেবে।

পাঠকের মতামত