প্রকাশিত: ১৮/১১/২০২০ ৭:৪৬ পিএম , আপডেট: ১৮/১১/২০২০ ৯:৫৩ পিএম

রিয়াজুল হাসান খোকন, বাহারছড়া,টেকনাফ::
উখিয়া উপকূলীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী গ্রামে সরকারী রাস্তার দাবীতে সমাবেশ করেছে স্থানীয় উপজাতী চাকমা ও তংচৈগ্যা সম্প্রদায়। জানা যায় উখিয়ার মনখালী চাকমা পাড়া এলজিইডি সড়ক থেকে প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার ভেতরে চাওখালী নতুন কেজারি জুম পাড়া। যুগের পর যুগ চলে গেলেও একটি রাস্তার অভাবে এই পাড়ার বাসিন্দাদের কষ্টের যেমন শেষ নেই তেমনি তাদের দ্বারা চাষের উৎপাদিত ফসল ও বিভিন্ন জিনিস পত্র বাজারে বিক্রি করতে আনতেও দূর্ভোগের শেষ নেই। পণ্য গুলো নিজ কাধেঁ নিয়ে মাইলের পর মাইল হেটে তারা এলজিইডি সড়কে আসে। এই যেন আধুনিক যুগে অবাক হওয়ার কান্ড।

এই অজপাড়া গ্রামে ২০০-২৫০ পরিবারে প্রায় হাজার দেড়েক মানুষের বসবাস। নেই কোনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাবা মায়েরা তাদের কোমলমতি শিশুদের ৬-৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এলজিইডি সড়কের পাশে অবস্থিত ছেপটখালি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মনখালী চাকমা পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের এই জীবন সংগ্রাম শেষে অনেক শিক্ষার্থী আজ হাইস্কুল ও কলেজ জীবন পেরিয়ে এখন দেশের অনেক নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এই কথা বলতেই এই পাড়ার মানুষ অনেক আবেকপ্লুত হয়ে উঠে।
আবার অনেক শিক্ষিত লোক ছোট বড় পদে সরকারী চাকরি করে। তাদের প্রচেষ্টায় কোনো রকম তারা শিক্ষার আলো গ্রহন করলেও অর্থ এবং জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক পরিকল্পনা ও একটি রাস্তার অভাবে তাদের জীবন এখনো সভ্যতার বাইরে অন্ধকারে বলে তারা মনে করেন। তবে তারা স্বপ্ন দেখে একদিন তাদের এই কষ্ট দুর হবে। কেউ সহযোগিতা বা উদ্যোগ গ্রহন করলে প্রয়োজনে এই গ্রামের লোকেরা সেচ্ছায় শ্রম দিবে এমন কথাও তারা বলেন।

এই গ্রামের লোকেরা আরো বলেন আমাদের বড় একটি ভয় থাকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, ও বিভিন্ন বয়েসর কোনো লোক হঠাৎ অসুস্থ হলে হাসপাতাল বা ডাক্তার দেখাতে শুধু এলজিইডি সড়কে আসতে তাদের তিন চার ঘন্টা লেগে যাবে। সে সময়ে কোনো ধরণের দূর্ঘটনা ঘটলে তাদের কিছু করার থাকবেনা। এই যেন যুগের পর যুগ তাদের অসহায়ত্ব। বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকটে উখিয়া – টেকনাফ বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত। আর স্থানীয়দের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অনেক এনজিও সংস্থা কাজ করছে। সে সুবাধে যদি সুযোগ থাকে কোনো এনজিওকে বলে হলেও সরকার বা জনপ্রতিনিধিরা যেন এই গ্রামে যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তার ব্যবস্থা করে দেয় এমন দাবীও তাদের। অন্যদিকে একটি রাস্তার জন্য এই গ্রামের মানুষেরা সরকারী বাজেটের জন্যও চেয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সমাজ সেবক ও উখিয়ার উপজেলা যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন দূর্জয় বলেন আমরা দীর্ঘকাল ধরে দেখতেছি একটি রাস্তার অভাবে এই গ্রামের মানুষেরা অনেক কষ্ট পাচ্ছে। তাই সরকার যেন এই গ্রামে যাতায়াত করতে একটি রাস্তা তৈরি করে দেয় তার দাবী জানাচ্ছি। অন্যদিকে উখিয়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান চাওখালী নতুন কেজারি জুমপাড়াটি পাহাড়ের বেশি ভেতরে হওয়াতে তাদের যাতায়াতের জন্য একটি টেকসই রাস্তা তৈরিতে অনেক কঠিন হচ্ছে। তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি কি ভাবে এই গ্রামের জন্য একটি রাস্তা তৈরি করা যায়।

পাঠকের মতামত

অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী

অক্টোবরে মধ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম ...

২৬-২৮ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে মার্কিন প্রতিনিধিদল

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে আসছে মার্কিন কংগ্রেসের কর্মকর্তা পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ২৬-২৮ আগস্ট ...

স্বাস্থ্য তহবিল কমছে, ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে ঝুঁকি

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জনসংখ্যা বাড়লেও অর্থায়ন কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ...
Single Page Footer