

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন ৬০ ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ মিটার করে পুরো এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোটখাল সেতুসংলগ্ন আগুনের উৎসস্থল ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণ শুরু হয়।
আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বন্ধ রাখা বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩৬ ঘণ্টা পর বুধবার গভীর রাতে স্বাভাবিক হয়। এতে প্রায় চার হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইনানী ছোটখাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে তীব্র বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অবিরাম গ্যাস নির্গত হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। ভূগর্ভের ফাটল দিয়ে সেখান থেকে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। তবে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ ছাড়া গ্যাসের প্রকৃতি, উপাদান ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, গ্যাসের নির্গমন বা চাপ জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আপাতত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী কাইজার নুর জানান, আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। বুধবার রাতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, আগুনের উৎসস্থল থেকে ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে এবং বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত