প্রকাশিত: ০৫/১০/২০১৭ ৭:৩১ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১২:৪১ পিএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক ::
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) রোহিঙ্গাদের ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিলে জেলা প্রশাসনের কাজ কমে আসবে। তার আগে পর্যন্ত বালুখালী এলাকার দুই হাজার একর জমি উপযোগী করে তুলে সেখানে পুনর্বাসনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে কবে নাগাদ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারবে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি তারা।
প্রশাসন বলছে, এখনও প্রতিদিন লোক আসছে। তাদের এক জায়গায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ কাজ শেষ হলেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তখন জেলা প্রশাসনের কাজ কমে আসবে।
এরই মধ্যে ইউএনএইচসিআর কিছু সহায়তা করেছে। কিন্তু ক্যাম্পের দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানগুলো না নেওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসন কাজ চলিয়ে যাবে উল্লেখ করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক লোক একসঙ্গে এসেছে। আপাতত আমরা যে ক’টি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছি তা হলো— কেউ যেন না খেয়ে মারা না যায়, কোনও রোগ যেন ছড়িয়ে না পড়ে। এরপর আমাদের টার্গেট, নির্ধারিত ২০০০ একর জায়গা প্রস্তুত করা। এখনও চারপাশে যেসব রোহিঙ্গা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তাদের একত্রিত করা।’
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর ও আইওএম আসলে আমাদের কাজের চাপ কমবে। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের পুরো প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বালুখালী কতদিনে প্রস্তুত হবে বা কতদিনে সেখানে সবাইকে নেওয়া সম্ভব হবে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।’
মাহিদুর রহমান আরও বলেন, ‘এখনও রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে রয়েছে । তাদের পুনর্বাসনের কাজ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তাদের কোন এলাকা থেকে কোন এলাকায় রাখা হবে, এর ছক তৈরি করা হয়েছে। বাকি কাজ যখন শেষ করা সম্ভব হবে, তখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দায়িত্ব নেবে।’
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ ২৫টি জায়গায় ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের কুতুপালং ক্যাম্পে আনা হয়েছে। শুধু বান্দরবানেই ১৭ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সবাইকে কুতুপালং মূল ক্যাম্পে আনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সব রোহিঙ্গাকে সাময়িকভাবে কুতুপালং ক্যাম্পে রাখা হবে। এজন্য ক্যাম্পের পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন সেড নির্মাণ করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন অধ্যাপক সিআর আবরার। তিনি মনে করেন, যত দ্রুত সম্ভব শরণার্থীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তাদের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতে ছেড়ে দিয়ে পরিকল্পনামাফিক এগুনো যৌক্তিক।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইউএনএইচসিআর এর হাইকমিশনার ফিলিপ গ্রান্ডি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য অবকাঠামোসহ সার্বিক সহযোগিতা দেবে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। ইতোমধ্যে কুতুপালং ক্যাম্পের ভেতরে ১৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য ইউএনএইচসিআর ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মী সি আর আবরার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুনর্বাসনের নামে পুরো প্রক্রিয়াটা দীর্ঘমেয়াদী করা যাবে না। এটি যত দ্রুত সম্ভব ইউএনএইচআরসি-এর হাতে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে ত্রাণ আসায় পরিস্থিতি সামলে নেওয়া গেলেও এই ত্রাণের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে তা নয়। ফলে প্রক্রিয়াটি সিস্টেমেটিক হওয়া জরুরি। নতুন করে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইউএনএইচসিআর সম্পৃক্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী তাদের শরণার্থী সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা গেলে বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের দেশকে দোষারোপ করার সুযোগ থাকবে না। বাংলাদেশের এই মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কূটনেতিক উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এদের কিভাবে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে, সেটার জন্য মানসিক প্রস্ততি নেওয়ার পাশপাশি কোন নে সেটাও জরুরি।’

পাঠকের মতামত

নিজের সম্মানির টাকা মেধাবী শিক্ষার্থীকে দিলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া নিজের প্রাপ্ত সম্মানির টাকা আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রদান করলেন ...