প্রকাশিত: ২৯/০৫/২০১৮ ১০:২৭ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:২০ এএম
ডেস্ক নিউজ : অভিযানে আসছি, দ্রুত বাবা নিয়ে বসকে (মাদক ব্যবসায়ী) আত্মগোপনে যেতে বলো, স্যারেরা থাকবে, আমাদের কিছুই করার থাকবে না কিন্তু।’ রাজধানীতে মাদকের একটি আখড়া এলাকায় মাদক নির্মুল অভিযানে যাওয়ার আগে পুলিশের একজন কর্মকর্তা তার সোর্সকে এভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশে মাদক নির্মুল অভিযানে যাওয়ার আগেই আগাম তথ্য পুলিশের এক শ্রেণির কর্মকর্তা সোর্সের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এ কারণে অধিকাংশ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গা-ঢাকা দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে তারা ধরাছোয়ার বাইরেই থাকছেন। আর যারা ধরা পড়ছে তাদের বেশিরভাগ সেবনকারী ও খুচরা বিক্রেতা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ৪৯টি থানার প্রতিটিতে পুলিশের ১৫/২০ জন করে সোর্স আছে। এসব সোর্সের মাধ্যমে পুলিশকে অপরাধের তথ্য জানানোর কথা। কিন্তু তারা এখন উল্টো পথে চলছে। নিজেরাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে পুলিশের এক শ্রেণির কর্মকর্তার কাছে তারা পৌঁছে দেয়। এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষের টাকা পেয়ে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা বড়লোক হয়েছেন, তারা এখন অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছেন। তবে বড় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। নিয়মিত তারা বড় অঙ্কের টাকা পেয়ে থাকেন। যাই হোক মাদকের গডফাদাররা গ্রেফতার না হওয়ার মূলে রয়েছে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হওয়া। এ ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন।
রাজধানীর ১৩৮৪ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীসহ দেশের মাদকের গডফাদারদের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করেছে র্যাব ও পুলিশ। এতে দেখা গেছে অনেকেই আত্মগোপনে গিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ নতুন মোবাইলের সিম কিনে যোগাযোগ রাখছে। যাদের সিম চালু আছে সেখানে দেখা গেছে পুলিশের এক শ্রেণির কর্মকর্তার আগাম তথ্য ফাঁসের চিত্র।
এদিকে আগাম তথ্য ফাঁসের প্রেক্ষিতে এখনো রাজধানীর অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের একসময়ের বাসিন্দা ইশতিয়াক মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত। রাজধানীতে ইয়াবার পাইকারি কারবার শুরু করার ১০ বছর পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দারা তাকে শনাক্ত করে, তবে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বহু কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া ইশতিয়াকের নাম আছে ডিএনসিসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তালিকায়। তবে অভিযানের আগাম তথ্য পায় বলে সে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে।
রাজধানীর গুলশানের কড়াইল, কমলাপুরের টিটিপাড়া বস্তি ও কাওরানবাজার রেললাইন সংলগ্ন বস্তিতে অভিযান পরিচালনার তথ্য আগেই পেয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা। এ কারণে অনেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায়।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী মাদক নির্মুল অভিযানে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই ছোট বা মাঝারি শ্রেণির মাদক ব্যবসায়ী বা বাহক অথবা সেবক চুনোপুটি শ্রেণির। পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরষের মধ্যে ভূত বিরাজ করছে। পুলিশের এক শ্রেণির কর্মকর্তা অভিযানের আগাম তথ্য মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এ কারণে অভিযানে গডফাদাররা ধরা পড়ছে না।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ...
Single Page Footer