দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ, থমকে গেছে ইয়াবাবিরোধী অভিযান

ফাইল ছবি
ইয়াবার ট্রানজিট পয়েন্ট চট্টগ্রামে থমকে গেছে ইয়াবাবিরোধী অভিযান। ফলে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে বানের পানির মতোই আসছে মরণ নেশা ইয়াবা। যা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। মাদকের এ ভয়াবহ আগ্রাসন দ্রুত থামাতে না পারলে সার্বিক পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার ধারণ করবে এমন দাবি করেছেন অপরাধ বিজ্ঞানীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও প্রখ্যাত অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মাদকের আগ্রাসন থামাতে দ্রুত ফের মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে হবে।

তা না হলে এ ভুলের ভয়াবহ মাশুল দিতে হবে দেশ ও জাতিকে। ’ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। তাই হয়তো কাজের গতি কিছুটা কমেছে। আশা করছি শিগগির ফের আগের মতো করেই মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হবে। ’ সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘এরই মধ্যে সিএমপি থেকে অনেক অফিসার বদলি হয়ে গেছেন। কিন্তু যারা চলে গেছেন তাদের বিপরীতে নতুন করে জনবল পাওয়া যায়নি।

ফলে জনবল সংকটের কারণে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এ সংকট কেটে গেলে মাদকবিরোধী অভিযান স্বাভাবিক হবে। ’ জানা যায়, বছর কয়েক আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। বিশেষ করে ইয়াবার প্রবেশদ্বার কক্সবাজারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে প্রশাসন। কিন্তু সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর পরই পাল্টে যায় পুরোচিত্র। চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায় মাদকবিরোধী অভিযান। অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা ফের এলাকায় ফিরে আসে। মাদক ব্যবসা শুরু করে ঠিক ‘স্বাভাবিক’ সময়ের মতোই। মাদকবিরোধী অভিযানের ভাটার চিত্র পাওয়া যায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীদের বর্তমান চিত্র দেখেই। করোনা প্রাদুর্ভাব পূর্ববর্তী সময়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিদিন দুই থেকে তিনশ নতুন বন্দী আসতেন।
যার মধ্যে ৮০ শতাংশই আসছে মাদক মামলায়। বর্তমানে এ সংখ্যা নেমে এসেছে দেড় থেকে দুইশর মধ্যে। গতকাল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭৫৯ জন। করোনা প্রাদুর্ভাব পূর্ববর্তী সময়ে কারাগারে গড়ে বন্দী থাকত সাড়ে আট হাজার। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ‘আগে পুলিশ নিজে দায়িত্ব নিয়েই অনেক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতির কারণে ফোর্স আগের মতো দায়িত্ব নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। অফিসারদের অভিযান করতে বারবার অনুরোধ করলেও পিঠ বাঁচানোর মতো করে অভিযান পরিচালনা করে। ফলে মাদক উদ্ধার, মামলা এবং আসামি গ্রেফতার কমেছে। সুত্র: বিডি প্রতিদিন

Loading...
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন