করোনায় কমেছে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি, ক্ষুব্ধ গ্রাহক

করোনায় গৃহবন্দি মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাপ পড়ছে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কে। ফলে ফোরজি, থ্রিজি ইন্টারনেটের গতি কমে গেছে। বিভিন্ন সাইট ব্রাউজ করতে বা ফাইল ডাউনলোড করতে গিয়ে ধীরগতির সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। গত কয়েক দিনে এ সমস্যা বেশি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মানিকগঞ্জের বাসিন্দা আলী আকবর জানান, তার এলাকায় আগের মতো মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের গতি পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েক দিন থেকে এ সমস্যা বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, করোনার কারণে এলাকায় অনেক মানুষ চলে এসেছে, যারা আগে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করত। তিনি বলেন, আমার মনে হয় এখন ঘরে বসে সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ফেসবুক, ইউটিউব দেখে। এ জন্য হয়তো ইন্টারনেটের গতিও কমে গেছে।
তবে আলী আকবর সহজে বিষয়টির ব্যাখ্যা করলেও এ প্রসঙ্গে মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মূলত মোবাইল অপারেটরগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বড় বড় শহরে বেশি করে নেটওয়ার্ক বিস্তার করলেও দেশের বাকি এলকায় তা করে না। আর চাহিদার তুলনায় তাদের স্পেকট্রামও কম। ফলে এখন চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। মাঝখানে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহক। ঢাকার বাইরে ফোরজি নেটওয়ার্কে ২০-২৫ শতাংশ গতি কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে ঢাকার পাশাপাশি অন্তত বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে ফোরজির ভাল গতি পাওয়া গেলেও অনেক এলাকাতেই অবস্থা খারাপ। সেখানে ভিডিও দেখতে গেলে একটু পরপরই বাফারিং হয় বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। কোন কোন উপজেলায় থ্রি-জি দেখালেও ব্যবহারকারীরা টুজির সেবা পান।

এ প্রসঙ্গে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, হঠাৎ করে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী শহর থেকে গ্রামে চলে যাওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অপারেটররা গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেটার (ইন্টারনেট) দাম কমিয়ে বেশি ডেটা দেয়ায় এর ব্যবহার বেড়ে যায়। এছাড়া, গ্রাহকরা অফিস, ব্যবসা, শিক্ষা, বিনোদন ও অন্যান্য অনেক কাজ ঘরে বসে অনলাইনে করছেন, যে কারণে ইন্টারনেটের ওপরও চাপ বাড়ছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইলের ওপর নির্ভর করেন, যার জন্য পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন। তবে ইচ্ছা ও প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত দামের কারণে অপারেটররা স্পেকট্রাম বাড়াতে পারেন না।

মোবাইল অপারেটরগুলোকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে এমন একটি আইআইজির (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর বর্তমানে ৭০০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হচ্ছে, যা আগের প্রায় দ্বিগুণ। আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ব্যবহার করা হচ্ছে ১ হাজার জিবিপিএস। ব্রডব্যান্ডে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বাড়েনি। একটা পর্যায়ে গিয়ে স্থিতিশীল হয়ে আছে।

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, যে পরিমাণ স্পেকট্রাম মোবাইল অপারেটরগুলোর আছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের ভালো সেবা দেয়া সম্ভব নয়। বহু দিন ধরে আমি এটা বলে আসছি। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। জোড়াতালি দিয়ে চালিয়েছে। সেই ফল এখন ভোগ করছে। এ সময়ে গ্রাহকের চাপ বেড়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়েছে। সে জন্যই ‘সার্ভিস ফল’ করেছে। অপারেটরগুলো যদি ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ দিতে চায়, তাহলে তাদের স্পেকট্রাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

করোনার কারণে শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশে ফোরজির গতি কমেছে। হংকংভিত্তিক টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেন সিগন্যাল বলছে, গত ১ এপ্রিল ফোরজির ডাউনলোড গতি ছিল অনেক কম, ৭ দশমিক ৮ এমবিপিএস। বাংলাদেশে ফোরজির গতি হ্রাসের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি হবে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন