উখিয়ার সোনারপাড়া রিসোর্ট থেকে এনজিও কর্মীসহ ১০ জন আটক

সংবাদদাতা::

সোনার পাড়া রিসোর্ট

উখিয়ার সোনারপাড়ায় কথিত এমপি ফরিদের মালিকানাধীন ‘সোনার পাড়া রিসোর্ট’ থেকে ৮ জুয়াড়ি ও ২ এনজিও কর্মী আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি এ অভিযান চালান।
এসময় তাজ ও জুয়ার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। পরে রাতে আটক ১০ জনকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটকরা হলেন -উপজেলার জালিয়াপালংয়ের মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে নাজির হোসেন (৩৫), আলী আকবরের ছেলে ছলিম উল্লাহ (৪০), সফিউল আলমের ছেলে কামাল উদ্দিন (২৫), ছিদ্দিক আহমদের মেয়ে খুরশিদা বেগম (২০), হাজী হোসেন আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৬০), মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে কায়ছার হামিদ (২০), মৃত মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে শামশুল আলম (৬০), মৃত মকবুল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন (৪৫), রশিদ আহমদের ছেলে শাহা আলম (৪০) ও সোনারপাড়া ইউছুপ আলী মেম্বারের ছেলে আবুল কালাম (৫২)।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সোনারপাড়া রিসোর্টে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়মিত জুয়ার আসরে মগ্ন থাকে। বসানো হয় মাদকের আড্ডা। লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতিদিন ক্যাসিনো জুয়ার আসর পরিচালিত হয়। দেহব্যবসা থেকে শুরু করে অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ স্থান হিসেবে সোনার রিসোর্ট পরিচিত।
স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় রিসোর্ট মালিক ফরিদুল আলম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল প্রকাশ্যে। যে কারণে গভীর রাতে মাদকের আসর ও নারীদের রঙ্গশালায় পরিণত হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিদ্ধার্থ শাহা জানিয়েছেন, সোনারপাড়া রিসোর্টে জুয়ার আসরসহ অবৈধ কর্মকান্ডের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। পুলিশ অভিযানের আগেই সরে পড়ে অপরাধিরা। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিন দুপুরে জুয়া ও অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি অভিযান চালান। এসময় হাতে নাতে ৮ জন জুয়াড়ি ও এক প্রেমিক যুগলকে অবৈধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়। উদ্ধার হয় নগদ ৮৭ হাজার টাকা, তাজ ও বিভিন্ন জুয়ার সরঞ্জামাদি।
আটককৃতেদর সোমবার রাতে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে থানার একটি সুত্র জানিয়েছে।
এদিকে, অপরাধের এ স্বর্গরাজ্যের মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন