সীমান্তের ওপারে ১৫০ কারখানা

৪৫ রুট দিয়ে দেশে ঢুকছে ইয়াবা ও আইস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৪/০৫/২০২৬ ৯:৩০ পিএম , আপডেট: ২৪/০৫/২০২৬ ৯:৩০ পিএম

মাদকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান, সীমান্তে কড়া পাহারা, কোটি কোটি টাকার চালান জব্দ, তবুও থামছে না ইয়াবা-আইসের স্রোত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে বাহক, মাঝেমধ্যে মধ্যম স্তরের কারবারিও। অথচ বরাবরের মতো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদার, ডিলার ও মূল মাফিয়ারা। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা-আইস ঢুকছে বানের পানির মতো। আর দেশজুড়ে বিস্তার ঘটছে ভয়ংকর এক মাদক সাম্রাজ্যের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদক মিলিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এই বিপুল অর্থ এখন শুধু মাদক ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং গড়ে তুলেছে ভয়ংকর এক ‘নার্কো ইকোনমি’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মূলত চালানের ১০ থেকে ২০ শতাংশ মাত্র জব্দ করতে সক্ষম হচ্ছেন।

সীমান্তের ওপারে ১৫০ ইয়াবা কারখানা : পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন ওপারে প্রথমদিকে ৩৫টি স্থানে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা থাকলেও একপর্যায়ে তা ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়ে এখন প্রায় ১৫০টি কারখানায় পৌঁছেছে। সীমান্তের ওপারের মংডু, বুচিডং ও রাথেডং এলাকায় সবচেয়ে বেশি ইয়াবা উৎপাদনের কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবার বড় বাজার বাংলাদেশ। ইয়াবার পাশাপাশি সীমান্তে গড়ে উঠেছে আইস (মেথামফেটামিন) উৎপাদনের কারখানাও। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উৎপাদিত ইয়াবা ৪২ থেকে ৪৫টি রুট দিয়ে কক্সবাজার সীমান্তে ঢোকে। এরপর চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

বাহক ধরা পড়ে, গডফাদার থাকে আড়ালে : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ইয়াবা চালান নিয়ে ধরা পড়া পাচারকারীদের অন্তত ৮০ শতাংশই বাহক। তারা টাকার বিনিময়ে সীমান্ত থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান পৌঁছে দেয়। কিন্তু চালানের ভাগবাঁটোয়ারা, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং কোটি কোটি টাকার এই মাদক ব্যবসার মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে অধরাই। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুল ইসলাম বলেন, হাতেনাতে মাদক না পেলে মূলত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না। প্রচলিত আইন অনেক ক্ষেত্রেই তা কাভার করে না। যারা মাদকসহ ধরা পড়ে, তারা যদি কারও নাম উল্লেখ করে, তখনই শুধু মামলায় তাদের যুক্ত করা যায়।

বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৩ মে পর্যন্ত কক্সবাজার সীমান্ত ও এর আশপাশে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৭০০ কোটি টাকার মাদক জব্দের পাশাপাশি ১ হাজার ৩০৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে বিজিবি।

কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। তথ্য সূত্র : যুগান্তর

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...