জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭/০৭/২০২৬ ২:২৩ পিএম , আপডেট: ০৭/০৭/২০২৬ ২:৩৬ পিএম

উখিয়ার হাজিরপাড়ায় র‍্যাব-১৫-এর অভিযানে ড্রামভর্তি ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং স্ত্রী শাকিলা শারমিন রেশমী (২২) গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন স্থানীয় কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ ইদ্রিস। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, তাকে ও তার পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।

তবে ইদ্রিসের এই দাবির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন আলোচনা সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি, যারা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, দাবি করেছেন,সম্প্রতি ইদ্রিসের সঙ্গে তার ভাই ওসমানের অর্থ ও ব্যবসা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাদের ভাষ্য, একসময় ওসমান ইদ্রিসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং বিভিন্ন কাজে তার হয়ে কাজ করতেন। পরে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে ওসমানকে আলাদা হয়ে যেতে বলা হয়। এ সময় তাকে নগদ অর্থ ও একটি জমি দেওয়া হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় একটি মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইদ্রিসের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কুতুপালং এলাকার তার দুই ভাগিনা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের একজন স্থানীয় বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বলে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই ভাগিনার মাধ্যমেই সীমান্তকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

র‍্যাব-১৫ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৬ জুলাই বিকেলে ইদ্রিসের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইদ্রিস পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। র‍্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শাকিলা শারমিন রেশমী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় পলাতক ইদ্রিসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, ফেসবুক লাইভে ইদ্রিসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঘটনার প্রকৃত নেপথ্য, ইদ্রিসের সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য সহযোগী এবং অভিযোগে উল্লিখিত মাদক নেটওয়ার্কের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পলাতক ইদ্রিসকে গ্রেপ্তার করে তার বক্তব্য নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...