

বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিবেশী কোনো দেশের কেউ কোন রকমের ইন্সারজেন্সি অ্যাকটিভিটিস বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না এবং তাদের কোন অবস্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। এ ব্যাপারটা আমরা নিশ্চিত করেছি। এগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, কিন্তু বাংলাদেশের মাটি আমরা কাউকে ব্যবহার করতে দেব না। আমাদের দেশ থেকে অন্য কোনো দেশে সমস্যার সৃষ্টি করুক বা কোন রকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাক সেটা আর করতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে অতীত সরকারগুলি যা করেছিল তাদের বিতাড়িত করেছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি।
সরকারি দলের অপর সদস্য শহিদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দু’টি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি এবং এ বিষয়ে তাদের সক্রিয় ভূমিকা আমরা আশা করছি। শুধু ভারত আর চীনের সাথেই নয়। বাংলাদেশসহ মিয়ানমারের সাথে যে কয়টি দেশের বর্ডারের সম্পৃক্ত রয়েছে যেমন চীন, ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং লাউস প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কাজেই এই সমস্যাগুলোর যাতে একটা সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আলাপ আলোচনা অব্যাহত আছে।
সংসদ নেতা বলেন, তাছাড়া আমি যখন চীনে গিয়েছিলাম তখন চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতিকে আমি অনুরোধ করেছিলাম বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে। চীনের রাষ্ট্রপতি আমাকে কথা দিয়েছেন এই সমস্যা সমাধানে তারা যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে তারা প্রতিনিধিও পাঠিয়েছেন মিয়ানমারে। তারা আলোচনা করছেন এবং মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছেন। ঠিক একইভাবে ভারত যখন গিয়েছিলাম তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাছাড়া জাতিসংঘে যখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয় তখনও তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমি প্রত্যেকের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেয়েছি। সমস্যাটা যে সমাধান হওয়া উচিত এখনই সকলেই সেটা অনুধাবন করেন। তবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা হল মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে। কাজেই তাদের সঙ্গে এবিষয়ে আলাপ আলোচনা অব্যাহত আছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিও সই করেছি। তারা এক সময় আগ্রহও দেখিয়েছেন যে রোহিঙ্গা ফেরত নেবে। একটা তালিকাও তৈরি হয়েছিল। ফেরত নেওয়ার সময়ও ঠিক হয়েছিল। কিন্তু আমাদের এখানে যে সকল রোহিঙ্গা আছে তারা হঠাৎ করে একটা আন্দোলনের মত গড়ে তুলল, যে তারা যাবে না। তাদের কিছু ডিমান্ড আছে এবং তারা নিরাপত্তা চায়। তারা নাকি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এখন নিরাপত্তার বিষয়টি মিয়ানমারের ওপর নির্ভর করে। তাদের মাঝে অন্তত পক্ষে মিয়ানমারের একটা বিশ্বাস জাগাতে হবে যে তারা সেখানে ফিরে গেলে নিরাপদ থাকবে। তাহলেই সমস্যাটা সমাধান করা সম্ভব। তবে আমরা এটুক বলব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আশিয়ান দেশগুলোও এখন যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে। এখন ওআইসিও আমাদের সমর্থন দিয়েছে

পাঠকের মতামত