সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ক্যাম্পের ভেতরে ও আশপাশে হাজার হাজার সংযোগ ব্যবহার হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন গড়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্যাম্পে মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকলেও কিছু ব্যক্তি ও চক্র ফাইবার অপটিক লাইনের মাধ্যমে ওয়াই-ফাই সংযোগ পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতি মাসে এসব সংযোগ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, উখিয়ায় বিটিআরসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত কয়েকটি বৈধ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বা অবৈধ রিসেলার তৈরি করে অনেক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে সংযোগ বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে বৈধ ব্যবসায়ীরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ক্যাম্পভিত্তিক বিভিন্ন অপরাধী চক্র ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বিভিন্ন সময়ে এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার সামনে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট সংযোগ অপরাধ দমনে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্পের কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও প্রচারণাও পরিচালনা করছেন। এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আরও কার্যকর মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উখিয়া নিউজ ডটকমকে বলেন,
“রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুমোদনহীনভাবে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোথাও এ ধরনের কার্যক্রম হয়ে থাকলে সেটি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।
পাঠকের মতামত