
শ.ম.গফুর,উখিয়া::
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সেবাই নিয়োজিত এনজিও সংস্থা কমিউনিটি ডেভলাপমেন্ট সেন্টার(কোডেক) এর বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাত সহ বিভিন্ন দাবী আদায়ে বিক্ষোভ করেছে লার্নিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকেয়া বেতন-বোনাস প্রদান সহ ১০ টি দাবী বাস্তবায়নের জন্য কোডেকের হেড অফিসে প্রধান নির্বাহী এবং উখিয়াস্থ প্রকল্প সমন্ধয়কারী(পিসি)বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছে।
আবেদনে প্রায় ৬০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বাক্ষরিত আবেদনে উল্ল্যেখ করা হয়েছে পূর্বের বকেয়া বেতন-বোনাস প্রদান করা,শিক্ষক থেকে পিও পদোন্নতি প্রদান,গুরুপ্তপূর্ণ সময়ে ছুটি মঞ্জুর করা,কথায়-কথায় চাকরীচ্যুতের ধমক না দেওয়া,শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিন মজুরের মত খাটানো যাবেনা,নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুরনো শিক্ষক দিয়ে সার্ভে করা যাবেনা,ট্রেনিংয়ে ভাতা দিতে হবে,শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে অসদাচারণ করা যাবেনা,অন্যান্য এনজিও সংস্থার প্রজেক্টের ন্যায় বর্ধিত বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে,অভিজ্ঞতা অনুযায়ী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার দাবী উপস্থাপন করা হয়। এসব দাবী আদায়ের লক্ষ্যে শনিবার থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক লার্নিং সেন্টার বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালনের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ করা হয়।বিক্ষোভ কালে কোডেকের উখিয়াস্থ প্রকল্প সমন্ধয়কারী হুমায়ুন কবির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তিরস্কার করে আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধেও কটুক্তিমুলক বক্তব্য দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।এসব শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিক্ষোভ করে জানিয়েছিল, কোডেকের সাবেক পিও মাদকাসক্ত যুবক,ইদ্রিসকে টাকার জোরে পদোন্নতি দিয়ে টিও করেছে।ইদ্রিস একজন মাদকাসক্ত, লাম্পট্য প্রকৃতির লোক।সে নারী শিক্ষিকাদের পিও করার প্রলোভনে ফেলে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে নানা অসদাচারণ করে থাকে।সে বালুখালীর বিভিন্ন মাদক পট্রি থেকে নেশাজাত দ্রব্য পান করে লার্নিং সেন্টারে গিয়ে মাতাল অবস্থায় যৌন নিপীড়ন চালানোর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
লোকলজ্জার ভয়,সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদার কারণে ইদ্রিসের হাতে লাঞ্চনা,নিপীড়নের শিকার অনেকেই এসব প্রকাশ করেনি।ইদ্রিসের পেকুয়া বাড়ি হওয়ার সুবাধে অভিনব কায়দায় মাদক-ইয়াবার চালান পাচারও করে থাকে বলে সুত্রে জানা যায়।
তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্বেও প্রকল্প সমন্বয়কারীসহ সংশ্লিষ্টরা রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।ওই ইদ্রিস কোডেকে চাকরী দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।অপরদিকে পিসি হুমায়ুন কবির সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে উখিয়া-টেকনাফের বাইরের এলাকার লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের নিম্ন পোষ্টে নিয়োগ দিয়ে কোন রকম দায়সারা নিয়োগ সম্পন্ন করে থাকে।উর্ধবতন পোষ্টে সব বাইরের লোক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয়দের সাথে প্রতারণা করে থাকে।ওইসব পোষ্টে অভিজ্ঞ স্থানীয়দের জন্য নেতৃত্বশীল কোন ব্যক্তি সুপারিশ করে মোবাইল করে চাকরী প্রার্থীদের সামনে কটুক্তি করে অশালীন মন্তব্য করে বলে জানা গেছে।এ ব্যাপারে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর(পিসি)হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত (০১৭১২৭৩৯১৩১) নাম্বারে একাধিকবার কল করা হয়।রিসিভ না করাই মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পাঠকের মতামত