সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া নিউজ ডটকম।
প্রকাশিত: ২৯/০৬/২০২৬ ৮:৪১ এএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন এনজিওর অধীনে চলমান কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ও ত্রাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেড নির্মাণ, টয়লেট, ওয়ারহাউসসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং ত্রাণসামগ্রী ক্রয়–বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া থাকলেও বাস্তবে কাজ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলেও বাস্তবে প্রি-সিলেক্টেড কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নির্ধারিত এনজিও চক্রের মধ্যেই কাজ সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া কার্যত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকিউরমেন্ট অফিসার, প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজার, লজিস্টিকস অফিসার এবং অ্যাকাউন্টস অফিসার পর্যায়ের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকর্তার কেউ কেউ নিজের নামে বা ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, ফলে একই ব্যক্তি দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং কাজ পাওয়া,উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, দরপত্র জমা দেওয়ার আগেই কোন প্রতিষ্ঠান কত দর দিতে যাচ্ছে,এ ধরনের তথ্য নির্দিষ্ট একটি চক্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ফলে সবচেয়ে কম দরদাতা আগেই নির্ধারিত হয়ে যায় এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুধুমাত্র তা বৈধতা দেওয়ার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে শুধু দরপত্রই নয়, নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নামমাত্র কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইভাবে ত্রাণ ও সরবরাহ কার্যক্রমেও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, কাজ গ্রহণ ও বিল অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি কমিশনভিত্তিক লেনদেনে জড়িত, যার কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও প্রকৃত সুবিধাভোগীরা কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত তারা বলে থাকেন, সকল প্রকল্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছতা বজায় রেখে পরিচালিত হয় এবং নিয়মিত অডিট ও মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিপুল বাজেটের মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্প যদি সত্যিই এভাবে নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের হাতে পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...