ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৫/০৫/২০২৩ ৯:৪১ পিএম

মিয়ানমারের রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ দেখে কক্সবাজারের টেকনাফে ফিরে এসেছেন ২০ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দলসহ বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

শুক্রবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা টেকনাফের ট্রানজিট ঘাটে এসে পৌঁছান।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আগে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি দেখতে ২৭ সদস্যের এই প্রতিনিধিদল শুক্রবারই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ ট্রানজিট ঘাট দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারের মংডু গিয়েছিলেন।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন ২০ জন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা এবং সাতজন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন।

মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু শহর ঘুরে এসে রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব, নিজেদের ভিটেমাটি এবং চলাফেরার স্বাধীনতা দিলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। মংডু শহরের পরিবেশ একটু ভালো হলেও গ্রামের পরিবেশে তারা সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তারা।

রোহিঙ্গারা কোনো ক্যাম্পে নয়, নিজেদের ভিটে-বাড়িতে ফিরে যেতে চায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে গণমাধ্যমের সাথে এই মতামত ব্যক্ত করেন দু’জন রোহিঙ্গা নেতা।

তবে সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাখাইনের মংডু শহর ও গ্রামের পরিবেশ এখন অনেক ভালো। মংডু শহরে অধিকাংশ রোহিঙ্গা কাজকর্ম করছে, ঘুরছে অবাধে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। এক দিনে তা সমাধান করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের টেকসই এবং মর্যাদার ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন করতে চায় বাংলাদেশ।

এ সময় রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ সুফিয়ান জানান, ‘আমি যে গ্রামের বাসিন্দা সে গ্রামের নিজের বাড়িতে গিয়ে আমার বাড়ি ভিটায় একটা ক্যাম্প করেছে। আমরা এই ক্যাম্পে নয় নিজের ভিটা-মাটিতে ফিরতে চাই। আমাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে।’

মিয়ানমারে যাওয়ার জন্য টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, নয়াপাড়া ও জাদিমুড়া এলাকায় অবস্থিত ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর ক্যাম্পে বসবাসরত ২০ জন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাকে বাছাই করা হয়।

এর আগে ১৫ মার্চ টেকনাফ হয়ে বাংলাদেশে আসে মিয়ানমার সরকারের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। তারা বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের দেয়া রোহিঙ্গাদের তালিকা যাছাই-বাছাই করে।

প্রতিনিধিদলটি টানা সাত দিন টেকনাফের স্থলবন্দর রেস্ট হাউজে অবস্থান করে বাংলাদেশে আশ্রিত ১৪৭ রোহিঙ্গা পরিবারের মোট ৪৮৬ জন রোহিঙ্গার সাথে সরাসরি কথা বলে। আর তাদের দেয়া বক্তব্য রেকর্ড করে। গত ২২ মার্চ সকালে প্রতিনিধিদলটি নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারে ফিরে যায়।

ওই সময় মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যাদের প্রত্যাবাসন করা হবে সেই সব রোহিঙ্গা যাতে আগে থেকে রাখাইনের সার্বিক পরিবেশ স্বচক্ষে দেখে আসতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদল শুক্রবার রাখাইন যান।

পাঠকের মতামত

টুপটুপ রিসোর্টে ১০ মৃত্যু: ম্যানেজারের ৭ দিন রিমান্ড চায় পুলিশ

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার রিসোর্টের ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ

কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ...

চকরিয়ায় থামে না ঢাকাগামী ট্রেন, দুর্ভোগে ২০ লাখ মানুষ আরও কয়েক

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চলাচলকারী ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন চকরিয়া স্টেশনে থামে না। ফলে চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরীসহ আশপাশের ...

সাংবাদিক হয়রানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হয়রানি ও বাধার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে কক্সবাজার ...

পোড়া রিসোর্টে স্ত্রীকে জড়িয়ে, কোলে সন্তান নিয়ে স্বামীর হৃদয়বিদারক দৃশ্য

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে একটি মরদেহের পাশে পাওয়া ...

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: মালিক ও ম্যানেজারসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় চারজনের নাম ...