
সরওয়ার আজম মানিক,কক্সবাজার
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ১৪২৫ বাংলা বর্ষকে বিদায় ও ১৪২৬ বর্ষকে বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। টানা ছুটি আর ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতে নামবে পর্যটকের ঢল। সৈকতে মঙ্গল শুভযাত্রা, ঘুড়ি উৎসবসহ থাকছে নানা আয়োজন। সেই সঙ্গে পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রাখাইন সম্প্রদায়ের সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠান চলবে।
রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন জলকেলি উৎসবে মেতে উঠবে। এ সময়ে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে শহরের প্রায় প্রতিটি হোটেল-মোটেলে অগ্রিম বুকিং হয়েছে। সৈকতের থাকছে নানা আয়োজন। বাংলা বর্ষকে বিদায় ও বরণ করতে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিকরা। হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কৈয়ুম চৌধুরী জানান, ১৪ এপ্রিলের সঙ্গে যোগ হয়েছে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি।
টানা তিন দিন ছুটি পড়ায় হোটেলগুলোয় ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে শহরের চার শতাধিক হোটেল-মোটেলের প্রায় কক্ষ তিন দিনের জন্য বুকিং হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। বাংলা বর্ষকে বরণ করতে কক্সবাজার শহরের তারকা মানের হোটেলগুলোয় নানা আয়োজন রয়েছে। জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে রেস্টুরেন্টগুলোয় নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ জেলা শহরের দেড় শতাধিক রেস্টুরেন্টে ইলিশ-পান্তাসহ নানা আয়োজন থাকবে পর্যটকদের জন্য।
রাখাইন গবেষক অধ্যাপক ক্যাথি অং জানান, রাখাইন সম্প্রদায় রাখাইন ও সখি বিদায় ও স্বাগত জানাতে ১৩ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এ সময় জলকেলি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসবের জন্য ইতোমধ্যে শহরে ও জেলার বিভিন্ন স্থানে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। জলকেলি উৎসব দেখতে এসব প্যান্ডেলে পর্যটকদের আগমন ঘটবে বলেও জানান এ রাখাইন গবেষক।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ব্যতিক্রমী মঙ্গল শুভযাত্রা সমুদ্রসৈকতে আগত পর্যটকদের আনন্দ দেবে। সৈকতে ঘুড়ি উৎসব ছাড়াও পহেলা বৈশাখ সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কক্সবাজার শহীদ দৌলত ময়দানে পিঠা উৎসবসহ আরও বেশ কিছু আয়োজনের কথাও জানান জেলা প্রশাসক।
বাংলা বর্ষবরণ আর টানা ছুটিতে কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম।

পাঠকের মতামত