ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৫/০৫/২০২৬ ১২:১৩ পিএম

ইয়াবা পাচারে ‘বডি প্যাকিং’ কৌশল, ছড়িয়ে পড়ছে পুরো দেশে

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়াবা পাচারকারীরা এখন নতুন নতুন কৌশল বেছে নিচ্ছে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও আলোচিত কৌশল হয়ে উঠেছে ‘বডি প্যাকিং’। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) এক বিশেষ অভিযানে ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ চার রোহিঙ্গা মাদক কারবারি আটক হওয়ার ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে ভয়ংকর পাচার কৌশল ‘বডি প্যাকিং’।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায়, এটি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে মাদক কারবারিরা ইয়াবা বা অন্য মাদকদ্রব্য ছোট ছোট পলিথিনে মুড়িয়ে মানবদেহের ভেতরে বহন করে। কখনও মুখ দিয়ে গিলে পাকস্থলী ও অন্ত্রে জমা রাখা হয়, আবার কখনও শরীরের গোপন অঙ্গে লুকিয়ে পরিবহন করা হয়। এরপর গন্তব্যে পৌঁছে তা বের করে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় র‍্যাবের সাম্প্রতিক অভিযানে ধরা পড়া চারজন রোহিঙ্গাও ঠিক একই কৌশল ব্যবহার করেছিল। আটক ব্যক্তিরা হলেন—উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-০৬-এর মোঃ সালামের ছেলে জিয়াউর রহমান (৩৫), বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-১০-এর মৃত আনু মিয়ার ছেলে আবু তৈয়ব (৩৫), কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-০৫-এর মৃত মিন্নুর ছেলে জাফর মিয়া (৪০) এবং বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-১০-এর মৃত আনু মিয়ার ছেলে মোঃ সাকের (২৮)।

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তারা নিজেদের সাধারণ যাত্রীর মতো ছদ্মবেশ ধারণ করে। কিন্তু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব সদস্যরা সন্দেহভাজন চারজনকে শনাক্ত করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, তাদের পেটের ভেতরে ইয়াবার পুটলি রয়েছে। এরপর সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এক্স-রে ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের শরীর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা।

আন্তর্জাতিক অপরাধবিশ্বে ‘বডি প্যাকিং’ শব্দটি বহু পুরোনো। লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কোকেন পাচারের সময় প্রথম এই কৌশল ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়াতেও এটি উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এই পদ্ধতিতে মাদকদ্রব্যকে খুব ছোট আকারে বিশেষভাবে মোড়ানো হয়। সাধারণত পলিথিন, রাবার, কনডম বা বিশেষ টেপ ব্যবহার করে একাধিক স্তরে প্যাকেট তৈরি করা হয়, যাতে তা পাকস্থলীর অ্যাসিড নষ্ট না হয়। এরপর পাচারকারী সেগুলো মুখ দিয়ে গিলে ফেলে। একজন পাচারকারী কখনও কখনও শতাধিক প্যাকেটও বহন করে থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটি প্যাকেট ফেটে গেলেই অতিরিক্ত মাদক শরীরে ছড়িয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে ইয়াবার মতো মেথামফেটামিনভিত্তিক মাদক শরীরে দ্রুত বিষক্রিয়া তৈরি করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে চেকপোস্ট, স্ক্যানার ও সাধারণ তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়া। যেহেতু মাদক শরীরের ভেতরে থাকে, তাই অনেক সময় সন্দেহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পাচারকারীরা যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন বা লঞ্চ ব্যবহার করে সহজে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় মাদক সরিয়ে নেয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। তারা যাত্রীবাহী বাসে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে চলাচল করত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে শরীরের ভেতরে ইয়াবা বহনের কৌশল ব্যবহার করত।

র‍্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় একটি চালান পাচার হওয়ার খবর আগে থেকেই তাদের কাছে ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার সাতকানিয়ার ঠাকুরদিঘী বাজার এলাকায় নজরদারি বসানো হয়। রাত আটটার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ শুরু করেন র‍্যাব সদস্যরা। সন্দেহভাজন চারজনের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। তারা বারবার অস্থির হয়ে উঠছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা শরীরের ভেতরে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করে। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষণের পর ধীরে ধীরে পেট থেকে ইয়াবার পুটলি বের হতে থাকে। উদ্ধার করা হয় ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে ইয়াবা পাচার করছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা কিছু অপরাধচক্র সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে ইয়াবা দেশে প্রবেশ করাচ্ছে। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলে লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীর বসবাস। মানবিক সংকটের কারণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারি, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও মানবপাচার চক্র।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো মাদকচক্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে—সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থান, ঘনবসতিপূর্ণ ও জটিল ক্যাম্প কাঠামো, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা এবং সহজে পরিচয় গোপন করার সুযোগ।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা উৎপাদন ও পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিভিন্ন দালাল ও পরিবহনকারীর মাধ্যমে তা দেশের ভেতরে পৌঁছে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র মানুষকে অল্প টাকার বিনিময়ে ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট হচ্ছে টেকনাফ-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এরপর সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান ভাগ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম হয়ে কিছু চালান যায় ঢাকায়। কিছু যায় কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলে। আবার একটি অংশ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও পৌঁছে যায়। পাচারকারীরা সাধারণত ব্যবহার করে—যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাক, মাছবাহী গাড়ি, কুরিয়ার সার্ভিস, প্রাইভেট কার, নারী ও শিশুকে ব্যবহার করে বহন এবং বডি প্যাকিং।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ার কারণে শরীরের ভেতরে মাদক বহনের প্রবণতা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা শরীরের ভেতরে ইয়াবা বহন করে তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকিতে থাকে। পলিথিনের প্যাকেট ফেটে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, খিঁচুনি শুরু হতে পারে, এমনকি হঠাৎ মৃত্যু ঘটতে পারে।

 

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহে কোনো বস্তু দীর্ঘ সময় থাকলে অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সংক্রমণ, আলসার, রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারীরা কয়েকদিন না খেয়ে থাকে, যাতে মলত্যাগ কম হয়। এতে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার প্যাকেট বের করতে তারা নানা ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বডি প্যাকিং বড় মাথাব্যথার কারণ। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে প্রায়ই ধরা পড়ে এমন পাচারকারী। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে কোকেন পাচারে এই কৌশল বহুল ব্যবহৃত। আন্তর্জাতিক অপরাধ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একজন পাচারকারী কখনও ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত মাদক শরীরের ভেতরে বহন করে। বিশেষ করে বিমানবন্দর স্ক্যানিং প্রযুক্তি ফাঁকি দেওয়ার জন্য অত্যন্ত দক্ষভাবে প্যাকেট তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারে একই কৌশল এখন ভয়ংকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বডি প্যাকিং শনাক্ত করা সহজ নয়। কারণ সাধারণ তল্লাশিতে কিছু পাওয়া যায় না। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিকিৎসা পরীক্ষার আওতায় আনতে হয়। এক্স-রে বা স্ক্যান ছাড়া অনেক সময় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় না। র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলেও পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

ইয়াবা শুধু একটি মাদক নয়; এটি এখন একটি বিশাল অবৈধ অর্থনীতির অংশ। সীমান্ত থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্ক এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একটি ইয়াবা ট্যাবলেট সীমান্ত এলাকায় যে দামে বিক্রি হয়, শহরে এসে তার দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে পাচারকারীরা বিপুল মুনাফা পায়। এই অর্থের একটি অংশ যায় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিগ্রস্ত নেটওয়ার্কের হাতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবসা শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়; অর্থনীতি, সমাজ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। তরুণ সমাজ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতাও বাড়ে।

বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে তরুণদের ওপর। সহজে বহনযোগ্য ও দ্রুত নেশা সৃষ্টিকারী হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ইয়াবা সেবনে মানুষ আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে। ঘুম কমে যায়, মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, স্মৃতিশক্তি কমে যায়। অনেকের মধ্যে আত্মহত্যাপ্রবণতা পর্যন্ত তৈরি হয়। পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, অপরাধে জড়িয়ে পড়া, আর্থিক ধ্বংস—সবকিছুর পেছনেই ইয়াবার বড় ভূমিকা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই পাচারকারীরা নিজেরা বড় মাদক ব্যবসায়ী নয়। তাদের ব্যবহার করা হয় ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে। অল্প টাকার বিনিময়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে তারা মাদক বহন করে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে চক্রগুলো। তারা সহজ আয়ের লোভ দেখিয়ে কাজে নামায়। পরে ধীরে ধীরে অপরাধের গভীরে টেনে নেয়।

মাদক পাচার রোধে বর্তমানে বিমানবন্দর ও সীমান্তে আধুনিক স্ক্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে পাচারকারীরা নতুন কৌশল উদ্ভাবন করায় চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে প্যাকেট তৈরি করে, যাতে স্ক্যানারে ধরা কঠিন হয়। আবার কেউ কেউ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম পকেট তৈরি করার মতো ভয়ংকর পথও বেছে নেয়—যদিও বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা এখনো সীমিত।

মাদকাসক্তদের পরিবারগুলো বলছে, ইয়াবা এখন অনেক সহজলভ্য হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণরাও এতে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে রাত জেগে পড়াশোনার অজুহাতে ইয়াবা সেবন শুরু করে পরে আসক্ত হয়ে পড়ে।অভিভাবকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নেটওয়ার্কও এখন মাদক বিক্রির বড় মাধ্যম। ফলে সন্তানদের ওপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মাদক পাচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডরে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করায় সব গাড়ি তল্লাশি করা সম্ভব হয় না। পাচারকারীরা এই সুযোগ কাজে লাগায়। কখনও সাধারণ যাত্রী সেজে, কখনও নারী ও শিশুকে সামনে রেখে, আবার কখনও বডি প্যাকিংয়ের মাধ্যমে তারা মাদক পরিবহন করে।

র‍্যাব-১৫ এর স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মেহেদী আলম জানান, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। তারা কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালান পৌঁছে দিত।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পাচারকারীরা এখন মানবদেহ ব্যবহার করছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক অভিযানের মাধ্যমে এ ধরনের চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...