

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই শিক্ষার্থী কামরুল হাসান নয়ন ও সিফাতের অবশেষে সন্ধান মিলেছে। নিখোঁজের ১৩ দিন পর তাদের উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দুই পরিবারে। তবে ফিরে এসে অপহরণ ও পাচারচেষ্টার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে দুই শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ধুরংখালী নতুনপাড়া গ্রামের সৈয়দ আলমের ছেলে কামরুল হাসান নয়ন (১৮) এবং একই এলাকার মনজুর আলমের ছেলে সিফাত (১৭) গত ১ মে কোটবাজারে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এরপর দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির সূত্র ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায় এবং দেশের বিভিন্ন থানায় ওয়্যারলেস বার্তা পাঠানো হয়।
অবশেষে বুধবার(১৩ মে) নিখোঁজের ১৩ দিন পর দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
উদ্ধারের পর দুই শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার দিন তারা টমটমে করে বাসার দিকে ফিরছিলেন। চৌধুরীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে টমটমে থাকা ড্রাইভারসহ তিনজনের মধ্যে ড্রাইভার ছাড়া অপর দুই ব্যক্তি তাদের মুখে স্প্রে জাতীয় কিছু প্রয়োগ করে। এরপর তারা অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের ভাষ্য, জ্ঞান ফেরার পর তারা নিজেদের টেকনাফের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি এলাকায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে অপহরণকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে টেকনাফের গুদারপাড়া এলাকায় চলে আসেন। এ সময় পাচারকারীরা বিভিন্নভাবে তাদের ধরার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ থানা পুলিশের হেফাজতে দেন। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পুলিশের সহযোগিতায় তারা নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
এদিকে দুই শিক্ষার্থীর ফিরে আসায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


পাঠকের মতামত