
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সচিবালয় বিভাগের সংস্থাপন শাখায় ‘সড়ক তদারককারী’ পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার নাম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. শহীদুল ইসলাম (৩২) নামের ওই ব্যক্তি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একটি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১৬ মে ২০২৬ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ‘সড়ক তদারককারী’ পদে নিয়োগের জন্য ৬২ জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৫ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই তালিকার ১৩ নম্বরে রয়েছে শহীদুল ইসলামের নাম।
এদিকে, চসিকে চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যে শহীদুল ইসলাম বিভিন্ন মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে সম্প্রতি কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ২০২২ সালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতি ও প্রক্সি পরীক্ষার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায়ও তার নাম উঠে আসে। সে সময় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


পাঠকের মতামত