প্রকাশিত: ০৯/০৩/২০২০ ৯:২১ পিএম , আপডেট: ১৫/০৩/২০২০ ৩:১১ পিএম

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ বিদেশি বাংলাদেশে আসছেন। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিও কর্মীরাও রয়েছেন। যারা রোহিঙ্গাসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিভিন্ন ইস্যুতে এদেশে কাজ করেন। গত দুই সপ্তাহে এমন বেশ ড়কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা দেশে এসে কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই কাজে যোগ দিয়েছেন। যা আইইডিসিআরের নির্দেশনা লঙ্ঘন। এনজিও ব্যুরো বলছে, পর্যটক ভিসায় এসে যারা পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই কাজে যোগ দিচ্ছেন তাদের কোনো দায়িত্ব নেওয়া হবে না।

বিমানবন্দরে পুলিশের বিশেষ শাখার একটি সূত্রের তালিকায় বাংলাদেশে আসা বিদেশিদের মধ্যে বেশ কয়েকটি আইএনজিও’র নাম পাওয়া গেছে। যাদের বিদেশি কর্মকর্তারা ফেরার সময় শাহাজালাল বিমানবন্দরে কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হননি।

আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে ঢুকে যাওয়া এসব বিদেশিরা প্রথম দিন থেকেই শুধু ঢাকায় নয় ঢাকার বাইরেও স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। দেশে ঢুকতে তারা পর্যটক ভিসা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তারা আইএনজিওতে চাকুরি করেন।

ভিসা পরিচয় গোপন করে এভাবে কাজ করাদের তালিকায় বড় বড় কয়েকটি নামকরা আন্তর্জাতিক এনজিও নাম পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এদের মধ্যে মেডস্য স্য ফ্রঁতিয়ে (এমএসএফ), অক্সফাম, প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল-এর নাম রয়েছে। নাম আসা এসব আইএনজিওদের বেশিরভাগের অফিস গুলশান-বনানী এলাকায়। এসব আন্তর্জাতিক এনজিওদের এসব কর্মীরা কেউই কোয়ারেন্টাইনে নেই।

বাংলাদেশি এনজিও ব্যুরোর দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, দেশে কাজ করছে ২৫৬ টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে পরিচিত ও বড় পরিসরের কয়েকটি আন্তর্জাতিক এনজিও কর্মীদের দেশ ও দেশের বাইরে যাতায়াতের পরিমাণ বেশি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আবুল কালাম জানান, ‘আমরা এখন আইএনজিও‍গুলোর বিদেশি যাতায়াত ডিসকারেজ করছি। অপরিহার্য না হলে আসা যাবে না বলছি। এরপরও যদি পর্যটক ভিসায় কেউ এসে ঢুকে আইএনজিওতে কাজ করে সেটা দেখার দায়িত্ব বিভিন্ন এজেন্সির রয়েছে। আমরাও ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শাহজালাল এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এরকম অপরিহার্য ছাড়া কেউ যদি আসে তাহলে তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

যারা বিদেশি পর্যটক হিসেবে দেশে এসে তাদের এনজিওতে কাজ করছে তাদের বিষয়ে ব্যুরো থেকে কোনো ক্লিয়ারেন্স নেই। সে হিসেবে এখানে তারা যদি কাজ করে সেটি অবৈধ। এগুলো ডিটেক্ট করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন এনজিও ব্যুরো মহাপরিচালক।

এদিকে, শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, ৬টি দেশের নাগরিক বাংলাদেশে এলে তাদের ক্ষেত্রে শতভাগ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা আছে। এছাড়া অন্যদেশ থেকে আসা বিদেশিদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। দেশ ৬টি হচ্ছে, চীন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ইরান ও থাইল্যান্ড।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, চীন থেকে দেশের বড় বড় প্রজেক্টের শতাধিক কর্মকর্তা করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দেশে এসেছেন। তবে এসব কর্মকর্তাদের সরাসরি প্রজেক্টে নিয়ে যাওয়া এবং কোয়ারেন্টাইন করা সবকিছুই ঢাকার চীনের দূতাবাস কঠোরভাবে মনিটরিং করেছে। এখনও দেশের ভেতরে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন বহু চীনা।

সম্প্রতি পদ্মাসেতু ও পদ্মা রেল লিংক প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং পরামর্শ দিয়েছেন বিমানবন্দর ও বন্দরে স্ক্যানারসহ আরও কড়াকড়ি আরোপের জন্য।

চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা ওই সময় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, চীন থেকে নয় বাংলাদেশে করোনা প্রবেশ অন্য দেশ থেকে করতে পারে এমন আশংকাই বেশি। এজন্য সরকারকে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানান তারা। সুত্র, সারাবাংলা

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে ‘হত্যা’, বিচার চেয়ে থানায় মালিক

নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ...

‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ...

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...