
শতাধিক মাদার ট্রি গাছ কর্তন, পরিবেশ ঝুঁকির মুখে
শহরের জেলগেইট সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ের মাটি কাটা এবং শতাধিক মাদার ট্রি ও অন্যান্য গাছপালা অপসারণের অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে পাহাড়ের বহু অংশে মাটি তোলা এবং গাছ কাটার দৃশ্য স্থানীয়দের চোখে পড়ছে। তাঁদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড শুধু পাহাড়ের স্থিতি দুর্বল করছে না, পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, পাহাড় কাটার কাজে আবুল কাশেম ও শাহেদ নামের দুই ব্যক্তি নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এদের কারণে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী পাহাড় ও মাদার ট্রি ধ্বংস হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের সবুজে ঘেরা সারি সারি মাদার ট্রি-সমৃদ্ধ এই পাহাড় আর আগের মতো নেই। চারদিকে খুদাই করে পাহাড় কেটে মাদার ট্রি সহ বিভিন্ন গাছ কেটে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি পাহাড়ের বহু অংশে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পরিবেশবান্ধব পাহাড়টিকে প্রায় ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে। সেখানে ছোট ছোট টিনের ঘর এবং মাদকসেবীদের আস্তানা গড়ে উঠেছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত আবুল কাশেম, শাহেদ ও নুরুল আলমের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে তারা কোনো বক্তব্য না দিয়ে সরে যান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রমাণিত হলে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো বলছেন, আগে ঝোপঝাড় ও বড় গাছের কারণে পাহাড়টি স্বাভাবিকভাবেই সুরক্ষিত ছিল। এখন এসব মাদার ট্রি ও অন্যান্য গাছ কেটে ফেলার ফলে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদুল হক বলেন, “পাহাড় কাটার পর মাটি আগের মতো শক্ত নেই। ভিজে মৌসুম এলে কী হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি।”
স্থানীয়দের অভিমত, এভাবে গাছ কাটা ও পাহাড় ভাঙার ঘটনা চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বর্ষায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে এবং প্রাণহানির আশঙ্কা থাকবে। তাঁদের অভিযোগ, বন বিভাগ ও পরিবেশ দপ্তরের তৎপরতা চোখে পড়ছে না; কার্যকর ভূমিকা ছাড়া এসব অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়।
এলাকার সূত্রগুলো জানায়, জেলগেইট এলাকার পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জরুরি। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে যাতে পাহাড় ও আশপাশের পরিবেশ আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, “কক্সবাজারের প্রায় সবখানেই পাহাড় ও গাছ কাটার মহাউৎসব চলছে। আমরা পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করেও অনেক সময় তাদের সঙ্গে পেরে উঠি না। প্রশাসন যতদিন তাদের দায়িত্বকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করবে না, ততদিন এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চলতেই থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “জেলগেইট সংলগ্ন পাহাড়টি একটি বড় ও ঐতিহ্যবাহী পাহাড়। এখানে বহু মাদার ট্রি ও বিভিন্ন গাছ ছিল, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী লোভের বশবর্তী হয়ে এই পাহাড় ধ্বংস করছে। বাপার পক্ষ থেকে আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—সরেজমিনে তদন্ত করে পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

পাঠকের মতামত