
সৈয়দুল কাদের :
কক্সবাজারে অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। জেলার একটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন করলেও তিনি ভোট পেয়েছেন অতীতের সকল নির্বাচনের চেয়ে সর্বনি¤œ ভোট। যার ফলে অনেকটা চুপসে গেছে জামায়াত। তবে জামায়াতের শীর্ষনেতাদের দাবী তাদের অবস্থান আগের মতই রয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি হতাশ হলেও অস্তিস্থ সংকটে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের কোন নেতাকর্মীই নিজের দলীয় পরিচয় দিতে নারাজ। এ ছাড়া অনেকটা নড়-বড়ে হয়ে পড়েছে দলের চেইন অব কমান্ড।
প্রাপ্ত তথ্য মতে কক্সবাজারের দুইটি আসনে পৃথক একবার করে বিজয়ী হয়েছিল জামায়াত প্রার্থী। ১৯৯১ সালে প্রায় ৩৭ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে কক্সবাজার-১ আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক মঞ্জু। ৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী ভোট পান ২৭ হাজার ৫৪ ভোট।
কক্সবাজার-২ আসনে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মাত্র ২ হাজার ভোটে হেরে যান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিউল্লাহ কুতুবী। তিনি পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ৩৪৫ ভোট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের একই প্রার্থী তৃতীয় স্থানে চলে যান তিনি ভোট পান ২১ হাজার ৮৫৯ ভোট। ২০০১ সালে জামায়াতের প্রার্থী ছিল না। আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী হিসাবে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ নির্বাচিত হন। তিনি ভোট পান ১ লাখ ৪ হাজার ২৭১ ভোট। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী সর্বনি¤œ ১৮ হাজার ৫৮৭ ভোট পেয়ে জামানত হারান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ। কক্সবাজার-৩ আসনে ১৯৯১ সালে মাত্র ২ হাজার ভোটে হেরে যান জামায়াত প্রার্থী এডঃ ছালামত উল্লাহ নির্বাচনে তিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তিনি ভোট পান ৩০ হাজার ১৪১ ভোট। তিনি ৯৬ সালের নির্বাচনে ভোট পান ৩০ হাজার ৯০১ ভোট।
কক্সবাজার-৪ আসনে ১৯৯৬ সালে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডঃ শাহজালাল চৌধুরী ভোট পেয়েছিলেন ১৭ হাজার ৬০৭ ভোট।
কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনৈতিকভাবে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এক সময়ের কক্সবাজারের জামায়াত শিবিরের ঘাটি এখন আর নেই। তারা ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য মুখে বললেও তাদের অবস্থান এখন নড়-বড়ে। তারা কোনভাবেই আগের ধারায় ফিরে আসতে পারবে না। আগামিতে আরো কোন ঠাসা হয়ে পড়বে। এখন সাধারণ মানুষ জামায়াত কর্মী কিংবা নেতা পরিচয় দিতে বিব্রতবোধ করে। এতেই বুঝা যায় তাদের সাংগঠনিক অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা কোনভাবেই দুর্বল হয়নি। রাজনৈতিক হয়রানি ও পরিস্থিতির কারণে যা হবার হচ্ছে। তবে জামায়াতের সমর্থন আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বেড়েছে। সুত্র : দৈনিক কক্সবাজার

পাঠকের মতামত