
নতুন বছরকে (২০২২) স্বাগত জানাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভিড় জমিয়েছেন দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটক। তবে শান্তির খোঁজে আসা বিদেশি পর্যটকরা ভিক্ষুকদের হয়রানিতে অতিষ্ট। বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বেশি টাকা পাওয়ার আসায় তাদের পিছু ছাড়ছে না ভিক্ষুকরা।
আজ শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব বিদেশিরা যখন সৈকতে নামে তখন তাদের পিছু নেয় বেশ ক’জন ভিক্ষুক। এর মধ্যে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ছাড়াও একজন বয়স্ক ভিক্ষুকও ছিলো। তারা প্রায় পুরো সময় আগত বিদেশিদের কাছ থেকে টাকা চেয়ে হাত পেতে থাকেন। এতে চরম বিরক্ত বোধ করেন বিদেশি পর্যটকরা। তবে এসময় ট্যুরিস্ট পুলিশের কোন সদস্যকে চোখে পড়েনি।
যদিও শুধু সমুদ্রসৈকত নয়; প্রায় সব পর্যটক এলাকায় ভিক্ষুকদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। তাদের কারণে রাস্তায় চলাফেরা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকেই ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে ছিনতাইও করছে। এদিকে বিদেশি পর্যটকদের বিরক্ত দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশি পর্যটক ও স্থানীয়রা।
ঢাকা ব্যাংকের কর্মকর্তা শাহ আলম নামে এক পর্যটক বলেন, ‘ভিক্ষুকদের হাত পাতাকে বেশ বিরক্ত বোধ করছিলেন বিদেশিরা। কিন্তু ভিক্ষুকেরা নাছোড়বান্দা। কোনোভাবেই তারা বিদেশিদের পিছু ছাড়ছে না।’ ভিক্ষুকেরা যদি এভাবে বিরক্ত করে তাহলে এতে বিদেশি পর্যটকের আগমণে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণকাণ্ডের ঘটনার পরও সব ভুলে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানাতে কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে বিদেশি পর্যটকদের নিরপত্তায় কোনো ধরনের নজরদারি চোখে পড়েনি।
সম্প্রতি কক্সবাজারে এক নারী পর্যটককে ধর্ষণের অভিযোগে হয়েছিল আলোচনা-সমালোচনা; নড়েচড়ে উঠেছিল পুলিশ-প্রশাসনও। তবে ঘটে যাওয়া সেই চাঞ্চল্য ঘটনার কথা ভুলে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানাতে পর্যটন নগর কক্সবাজারে যেতে শুরু করেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। শীতের হিমেল হাওয়া ও শিশিরভেজা বালিয়াড়ি মেতে উঠছিল পর্যটকদের পদচারণায়। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানান উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ।
ভিক্ষুকদের হাতে বিদেশি পর্যটকদের হয়রানির কথা জানালে তাদের রোধ করতে পুলিশ পাঠাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান। সুত্র: সি ভয়েস


পাঠকের মতামত