
ডেস্ক রিপোর্ট::
নির্বাচন কমিশন (ইসি) হেড অফিসে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে আধুনিক হলেও কাঙ্খিত সেবা মিলছে না উপজেলা নির্বাচন অফিসে। দেশের অধিকাংশ উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিরুদ্ধে নাগরিক হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক কর্মকর্তা জানান, ইসির হেড অফিসে এনআইডি সেবার মান আধুনিক হলেও মাঠ পর্যায়ে কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। আমরা নির্বাচন কর্মকর্তাদের অনেক সময় বাঁচানোর চেষ্টা করি কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দুর্নীতির মাত্রা বেড়েই চলেছে অধিকাংশ উপজেলা নির্বাচন অফিসে। তবে কিছু কিছু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাগরিকদের দ্রুত সেবা দেন।
বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা অফিসে মাসউদুর রহমান নামের এক নাগরিককে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। মাসউদুর রহমানের এনআইডিতে নামের বানানে একটি অক্ষর ভুল আসে। তার বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলায় হলেও তিনি ঢাকা থাকেন। এনআইডি একটি অক্ষর সংশোধনের জন্য তিনি ঢাকা থেকে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান। এসএসসির সার্টিফিকেট, জন্মসনদ ও নাগরিক সার্টিফিকেট থাকলেও তার অবেদন গ্রহণ করা হয়নি। মাসউদুর রহমানকে অনেক ধরনের কাগজ আনতে বলা হয়। অথচ নামের একটি অক্ষর সংশোধনের জন্য এসএসসির সার্টিফিকেট ও জন্মসনদ থাকলে আবেদন জমা নেওয়ার কথা।
ঢাকা থেকে কম সময় নিয়ে পাথরঘাটা গিয়েছেন মাসউদুর রহমান। অন্যান্য কাগজ সংগ্রহ করতে সময় লাগবে এ কারণে অবেদনটি জমা নিতে অনুরোধ করেন তিনি কিন্তু আবেদন জমা না নিয়ে একপর্যায়ে সরাসরি অবৈধ প্রস্তাব দিয়ে বসেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার। পরে মাসউদুর রহমান এনআইডি সংশোধনের অবেদন জমা না দিয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন। হেড অফিসে এসে তার এনআইডির ২ নম্বর ফরম উত্তোলন করে দেখেন, তিনি ভোটার হওয়ার সময় সঠিকটা লিখেছিলেন, কিন্তু টাইপের সময় একটি অক্ষর ভুল করেছিলেন ইসির অপরেটররা। পরে হেড অফিসে একদিনের মধ্যে সংশোধিত এনআইডি পান মাসউদুর রহমান।
বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার বাসিন্দা আল আমি চাকরি করেন সিরাজগঞ্জ জেলায়। সেখানেই ভোটার হয়েছিলেন। এখন তিনি নিজ এলাকা বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলায় ঠিকানা স্থানান্তর হয়ে আসবেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, এখন এ অফিসে আবেদন জমা নিচ্ছি না, কয়েক মাস পরে আসেন। আর জমা নিলেও কার্ড কবে পাবেন, ঠিক নেই, কবে পাবেন। আপনি হেড অফিসে যোগাযোগ করেন। আল আমি এখনও তার ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য অবেদন জমা দিতে পারেননি বলে জানান।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সব ধরনের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। দেশের নির্বাচন কমিশন অফিসগুলোয় কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে গেলে তাদের হয়রানি না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক আরাফাত আরা স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইদানিং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, মাঠ পর্যায়ে এনআইডি সেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে সেবা প্রার্থীকে যথাযথ সেবা প্রদান করা হচ্ছে না। সেবা প্রার্থীকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বা সেবা প্রদানে অহেতুক গড়িমসি বা দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এনআইডি সংক্রান্ত কোন আবেদন প্রার্থী নতুন অন্তর্ভুক্তি (নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন), এনআইডি সংশোধন, কর্তন বা স্থানাস্তর বিষয়ে সেবার জন্য অফিসে আসলে তাকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের চেষ্টা করতে হবে। সেবা প্রার্থী যাতে কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হন, বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য তিনটি করণীয় নির্ধারণ করে দেয় ইসি।
সেগুলো হলো:-
১. জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন সেবা পেতে কোন ব্যক্তি আবেদন করলে তা প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্টসহ তিন দিনের মধ্যে সার্ভারে আপলোড করে চেক বাই উপজেলা করে দিতে হবে। আবেদনকারীর কাছে বারবার ডকুমেন্ট চাওয়া যাবে না। আবেদনকারীর প্রত্যাশিত সেবা অনুযায়ী যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন, তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে স্বাক্ষরিত স্লিপের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতার কাছে দিতে হবে। ভিবিআরএস কার্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারটিতে কোন আবেদনকারীর কাছে নোটে কোন ডকুমেন্ট চাওয়া হলে তা আবেদনকারীকে দ্রুত জানাতে হবে। এছাড়া তদন্তে থাকা আবেদন দ্রুত তদন্ত করে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন। অন্যথায় আবেদনকারীর পক্ষে জানা সম্ভব নয়, তার আবেদনটি কী অবস্থায় আছে এবং সেবা থেকে বঞ্চিত হবে ও ভোগান্তির শিকার হবে।
২. নতুন অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে জেলায় পাঠাতে হবে এবং জেলা হতে প্রিন্ট করে সাত দিনের মধ্যে ভোটারের কাছে পৌঁছাতে হবে।
৩. উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তার অফিসের কর্মচারীরা কীভাবে মানুষকে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে কত সময় নিচ্ছে সতা পুঙ্খানুপুঙ্খ মনিটর করবেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজের অফিসের পাশাপাশি তার আওতাধীন উপজেলা নির্বাচন অফিস মনিটর করবেন এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অফিস এবং তার আওতাধীন জেলা নির্বাচন অফিসগুলো মনিটর করবেন।

পাঠকের মতামত