

উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে ইউরিয়া সার পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলেও থামছে না চোরাকারবার। সর্বশেষ অভিযানে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। তবে তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীন পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিপি-১৮-এর উত্তর-পূর্ব দিকে ফারির বিল এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ১১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তিকে পানি দিয়ে ভাসিয়ে বস্তাবন্দি মালামাল আনতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় মো. জসিম উদ্দিন (১৯) নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং এলাকার বাসিন্দা।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত সার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত দিয়ে যাতে সার, জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্য মিয়ানমারে পাচার হতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক, চোরাচালান ও সার পাচার প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পালংখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘবদ্ধ চক্র মিয়ানমারে সার পাচার করে আসছে। তাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কিছু সার ডিলার ও তাদের সহযোগীরা এখনো গোপনে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত উখিয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার সার পাচার প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদারের কথা জানান।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা সীমান্ত দিয়ে সার পাচার বন্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্য ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করা ইউরিয়া সার সীমান্তপথে মিয়ানমারে পাচার হওয়ায় একদিকে সরকার রাজস্ব ও ভর্তুকির ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে কৃষকরাও প্রয়োজনের সময় সার সংকটের আশঙ্কায় থাকছেন। তাই সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি পাচারের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


পাঠকের মতামত