উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ১৫/১০/২০২৬ ৫:২৪ পিএম

প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে আস্থা ও সমন্বয় বাড়লে জনসেবা আরও গতিশীল হবে বলে মন্তব্য করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ নিরসন, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উখিয়া প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পর্যটন উন্নয়ন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।

পান্না আক্তার বলেন, প্রশাসনের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং কাজের মান উন্নয়নে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা সহায়ক হতে পারে। তিনি বলেন, “আমার ও আমাদেরও ভুল হতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজে ভুলত্রুটি থাকলে আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব।”

উখিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন ইউএনও। তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে পাঁচতারকা হোটেলসহ বিভিন্ন পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এ খাত সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পর্যটন উন্নয়নে কয়েকটি পার্কের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন আয়োজনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উখিয়ায় মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পান্না আক্তার বলেন, চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে থাকায় অনেকে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন না। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুরুতেই শাস্তির মুখোমুখি না করে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এরপরও কেউ অপরাধে জড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য খাতে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উখিয়ার সীমান্তবর্তী অবস্থান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিস্তৃতি এবং মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইউএনও। তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী কাজ করছে। তবে উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল ও সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্যাম্পে গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর কিছু রোহিঙ্গার ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াত এবং স্থানীয় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থানের অভিযোগও রয়েছে। ক্যাম্পের সীমানা ব্যবস্থাপনা ও প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করার পাশাপাশি এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে পান্না আক্তার বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের সমস্যা ও সম্ভাবনা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবাদানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সাংবাদিকদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শামসুর হক শারেক, উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার বদরুল আলম, উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুর রহিম শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদসহ অন্যরা।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতিবছর ৩০ হাজারেরও বেশি শিশুর জন্ম হচ্ছে

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে জোরদার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দরপত্রের তথ্য ফাঁস ঘুরে ফিরে একই ঠিকাদার, কমিশন বাণিজ্যের প্রশ্ন

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শেড নির্মাণ, শৌচাগার, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ত্রাণসামগ্রী ...

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি উখিয়ার সন্তান প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ। মহামান্য ...