

কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক ও সমন্বিত অভিযানে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরসার শীর্ষ কমান্ডারসহ মোট ৩ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী। অভিযানে অস্ত্র, গুলি, মাদক ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার এফডিএমএন ক্যাম্প-১ (ওয়েস্ট) সংলগ্ন একটি চায়ের দোকান থেকে আরসার আলোচিত শীর্ষ কমান্ডার জাহিদ হোসেন ওরফে লালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ফাইভ স্টার পিস্তল ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, লালু দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। আরসার সাবেক প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনির নেতৃত্বে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্র চালানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বিচারাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে রাতে পৃথক অভিযানে উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আটককৃতরা হলেন নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মিজান (৩৫) এবং মনজুর আলমের ছেলে রাকিব (১৮)।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া আর্মি ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তার আস্তানায় অভিযান চালায়। এ সময় তাদের বসতঘর তল্লাশি করে দা, চাপাতি, ওয়ার কাটার, পকেট নাইফ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবা পাচারের কাজে ব্যবহার করা হতো।
এ বিষয়ে উখিয়া আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক, ১ ইস্ট বেঙ্গল ও উখিয়া–টেকনাফ ট্রান্সপোর্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদার বলেন, পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আরসা কমান্ডার লালুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উখিয়া ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


পাঠকের মতামত