

উখিয়ায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও শীতের দাপটে কাঁপছে। ভোর ও রাতের শীতে অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। শীতার্ত মানুষের কষ্টের যেন শেষ নেই।
বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে থাকা ভবঘুরে মানুষগুলোর অবস্থা সবচেয়ে করুণ। রাতে গরম কম্বল মুড়িয়ে স্বচ্ছলরা ঘুমালেও দরিদ্র মানুষের সেই সুযোগ নেই। অনেকেই শীত নিবারণের মতো একটি কম্বল বা উষ্ণ পোশাকের অভাবে রাত পার করছেন কষ্টে।
এ অবস্থায় এখন পর্যন্ত উখিয়ায় শীতবস্ত্র বিতরণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি শুরু করার দৃশ্য দেখা যায়নি। ফলে শীতের তীব্রতা যত বাড়ছে, অসহায় মানুষের দুর্ভোগও তত প্রকট হচ্ছে।
এরই মধ্যে উখিয়ার ইদ্রিস নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক অসহায় মানুষের জন্য একটি কম্বলের সহায়তা চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং এলাকায় শীতার্ত মানুষের বাস্তব চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে।
শীতের তীব্রতার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। উখিয়া, কোটবাজার, কুতুপালং ও বালুখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্রের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোটবাজার, কুতুপালং ও বালুখালী বাজারে ভ্রাম্যমাণ দোকানে একশ, দুইশ ও তিনশ টাকা দামের শীতের কাপড় বিক্রি করে হকাররা জমজমাট ব্যবসা করছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায়ও শীতবস্ত্রের দোকানে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। শীত মোকাবিলায় অনেকেই সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই উষ্ণ পোশাক কিনতে ভিড় করছেন এসব দোকানে।
স্থানীয়দের মতে, শীতের শুরুতেই পরিকল্পিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি নেয়া জরুরি ছিল। তীব্র শীতের এই সময়ে দরিদ্র, ভবঘুরে ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর দ্রুত উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন তারা

পাঠকের মতামত