হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ২৩/০১/২০২৬ ৪:২২ পিএম


কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কের একেবারে গা ঘেঁষে অবস্থিত উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন এই সড়ক পার হয়েই স্কুলে আসা–যাওয়া করতে হয় শত শত ছোট শিক্ষার্থীকে। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহনের দাপটে সেই যাত্রা এখন আতঙ্কের নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সামনে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি মাসেই রাস্তা পার হতে গিয়ে বিদ্যালয়ের ফারুক নামের এক ছাত্র টমটমের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা চললেও এখনো সে পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। এই ঘটনাই নতুন করে সামনে এনেছে বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক নিরাপত্তার ভয়াবহ চিত্র। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ জানান, রোহিঙ্গা আগমনের পর কক্সবাজার–টেকনাফ সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। ভারী যান, বাস, মাইক্রোবাস, সী লাইন, কক্স লাইন, টমটম ও বিভিন্ন পরিবহনের অবাধ চলাচলের মাঝে ছোট শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপার একপ্রকার জীবনঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি সড়কের সঙ্গে লাগোয়া হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে আমাদের ক্লাস চালাতে হয়।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সমন্বয় সভাসহ বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। লিখিত ও মৌখিকভাবে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর উদ্যোগে বিদ্যালয়ের সামনে কিছু স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে। তবে সেগুলো এতটাই ছোট যে দ্রুতগতির যানবাহন তা মানছেই না। ফলে দুর্ঘটনা কমার বদলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের মতে, বিদ্যালয়ের সামনে একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা না হলে এই সমস্যা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।
অভিভাবকরাও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থী অভিভাবক সৈয়দ আলম বলেন, ছোট শিশুরা খেলতে গিয়ে বা দোকানে কিছু কিনতে বের হলে হঠাৎ দ্রুতগতির গাড়ির সামনে পড়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের সামনে কক্সলাইন ও সী লাইন পরিবহনের গাড়ির জটলা এবং বাস কাউন্টার থাকায় ফুটপাত কার্যত দখল হয়ে আছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির এই অংশে নিয়মিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং কিংবা স্কুল জোন চিহ্ন না থাকায় চালকরা গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। এতে করে প্রতিদিন স্কুলপথ যেন শিশুদের জন্য এক ভয়ংকর পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে।
এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যালয়ের সামনে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং স্থায়ী সমাধান হিসেবে ওভারব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই উদ্যোগ না নিলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই ঘুরপাক খাচ্ছে উখিয়ার স্কুলপাড়ায়

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...