নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৬ ৯:১৩ পিএম

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ

ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তারেক রহমান (৩১)। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করে গত ১৩ বছর ধরে নিয়মিত দেশে টাকা পাঠাচ্ছিলেন তিনি।

আরো কয়েক বছর পর দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নও ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গত ১৯ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের সময় তিনতলা থেকে পড়ে মারা যান তিনি।
তারেকের মরদেহ গত বুধবার রাতে বিমানযোগে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়।

এরপর ঢাকার একটি হিমায়িত লাশ পরিবহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সে করে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে তার মরদেহ নেওয়া হয় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে। সেখান থেকে ট্রলারে করে বিকেলে সেন্ট মার্টিনে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় মরদেহ। সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
তারেকের জেঠাতো ভাই আল ছাবের বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন তারেক।

বিভিন্ন সময়ে ফোনে কথা হলে বলতেন, এতদিনে দেশের জন্য খুব মায়া হচ্ছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের প্রকৃতি তাকে টানত। একবার পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে ঘুরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন।’
আল ছাবের বলেন, ‘তারেক দেশে ফিরেছেন, নিজের জন্মভূমি সেন্ট মার্টিনের মাটিতেও ফিরেছেন। তবে ফিরেছেন প্রাণহীন নিথর দেহ হয়ে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেকের মরদেহবাহী ট্রলারটি সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছালে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন। স্বজন ও গ্রামের মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর শুরু হয় শোকের মাতম।

স্বজনেরা জানান, তারেক সেন্ট মার্টিনের এক নারীকে বিয়ে করে তাকে ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। তাদের সংসারে তিন বছর ও ছয় মাস বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তারেকের মরদেহের সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও বিমানে বাংলাদেশে আসেন। স্বামী ও বাবার মরদেহের পাশে বসেই তারা ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তারেকের মরদেহ দেশে আনতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন তারা। সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তারা।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুর রহমান বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিনে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তারেকের মৃত্যুর পর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী জামাল হোসাইন বলেন, মালয়েশিয়া সরকার ও স্থানীয় ঠিকাদার সরাসরি যুক্ত থাকা বড় নির্মাণকাজগুলোতে সাধারণত শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের নাগরিকদের সাব-ঠিকাদার, তদারককারী বা ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে শ্রমিকেরা ঝুঁকিতে পড়েন।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি,জাল কাগজে যন্ত্রাংশ এনে তৈরীকৃত ৩ টি বিলাসবহুল গাড়ী জব্দ

কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে তৈরিকৃত পূর্ণাঙ্গ তিনটি বিলাসবহুল ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি, শিশু নিহত, নারীসহ আহত ৬

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে ...

জেলাভিত্তিক তদারকি ও সমন্বয়ের জন্যে দায়িত্ব বন্টন : কক্সবাজারের দায়িত্বে মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

জেলাভিত্তিক তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদের হুইপদের দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার। ২৭ ...
Single Page Footer