উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭/১০/২০২২ ৭:০৬ এএম

অদম্য মেধাবী নাসরিন জাহান টুম্পা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিশেবে নিয়োগ পেয়েছে।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেক বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী তাঁর স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ৪.০ সিজিপিএ এর মধ্যে ৪.০ সিজিপিএ অর্জন করে চমকপ্রদ ফলাফল অর্জন করেছে।
যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক ইতিহাসে একটি বিরল ও অভূতপূর্ব রেকর্ড। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর টুম্পা তাঁর অনন্য সাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এণ্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক পদে চূড়ান্ত নিয়োগ পেয়েছে।

এই সাফল্যের নেপথ্য কারণ হিশেবে টূম্পার সরল সাধারণ স্বীকারোক্তি, অধ্যবসায়,আত্মবিশ্বাস ও ধ্রুব লক্ষ্যই তার সাফল্যের মূলমন্ত্র।
পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা,পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থন ও প্রেরণাকে টুম্পা অনুঘটক বলে মনে করে।

সাদিয়া নাসরিন টুম্পা,ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের কলেজগেইট এলাকার মরহুম আব্দুস শুক্কুরের কনিষ্ঠা কন্যা।
তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে টুম্প সবার ছোট।
প্রয়াত বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে। বাবার সেই অমীয় প্রেরণায় বাবার স্বপ্নপূরণ করে মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিধিবাম। বাবা গত হয়েছে ঢের আগে,মেয়ের সেই সাফল্য দেখে যেতে পারেননি।
তাই বলে থেমে থাকেনি টুম্পা।এগিয়ে গেছে স্বপ্ন ছোঁয়ার অটল পণে।

টুম্পা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রতিটি স্তরে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে
ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন থেকে গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে ২০১০ সালে বিজ্ঞানে এসএসসি পাশ করে। ২০১২ সালে গ্লোন্ডেন প্লাস’সহ উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে কক্সবাজার সরকারী কলেজ থেকে।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এণ্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে।

বিরল ফলাফল অর্জনের পরেও কোন সুখবর না পাওয়াতে অনেকে বিদ্রুপ,শ্লেষ ও তীর্যক চাহনীতে ভ্রু কুঁচকালেও তার দৃঢ় আত্মাবিশ্বাসের কখনো আস্থা হারান। সেই অপ্রতিরোধ্য বিশ্বাসের মূল্যায়ন ও মর্যাদা তাকে তার অটল লক্ষ্য পৌঁছে দিয়েছে স্বপ্নবন্দরে।

সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারেরই জন্ম তার, শৈশব কৈশোরও কেটেছে ওই পরিবারের মধ্যবিত্ত ঘরানার সংস্কৃতি ও মূল্যবোধে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে তার প্রয়াত পিতা আবদুস শুক্কুর অন্য পাঁচ ছেলেমেয়েদেরকে টুম্পার মত সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়তই ভেঙেছেন মধ্যবিত্তের শেকল। স্বাদ আর সাধ্যের মাঝে একেঁছেন যতিচিহ্ন। মুজিব আদর্শবাদী চেতনা আর সাহস টুম্পার পিতাকেও যে কঠিন তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞার সনাতনী বাঙালি চরিত্রের ক্রুর দৃষ্টি বিক্ষত করেনি তা নয়। মহাসমুদ্রের সাথে যার গাটছড়া বাঁধা শিশিরে তাদের ভয় কিসে। সেই ব্রতই পালন করেছেন আমৃত্যু।

পাঠকের মতামত

টেকনাফে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

কক্সবাজারের টেকনাফে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া, ক্লাসে অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ...

উখিয়ায় সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় অনিয়ম ও তথ্য গোপনের অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সম্মিলিত পূর্ণাঙ্গ জ্যেষ্ঠতা (গ্রেডেশন) তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ...

কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ

ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে কক্সবাজারে বিশেষায়িত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান জন্য ...

উখিয়ার শিক্ষাবিদ নাজের হোসাইন মাস্টারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

উখিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রবীণ সমাজসংস্কারক ও সমাজসেবক মরহুম নাজের হোসাইন মাস্টারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১১ ...

এসএসসি ২০২৬: রামুতে GPA-5 অর্জনে শীর্ষে শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যক GPA-5 অর্জন করে ...