ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২০/০৮/২০২২ ৪:২০ পিএম , আপডেট: ২০/০৮/২০২২ ৪:২১ পিএম

দুর্দশা যেন পিছুই ছাড়ছে না জেলেদের। দুই সপ্তাহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কাটিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার পর ফের সাগর উত্তাল। তাই ২-৩ দিন সাগরে মাছ শিকারের পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ফের কক্সবাজার উপকূলে ফিরছেন জেলেরা। ইলিশ শূন্য ট্রলারগুলো নোঙর করছেন ঘাটে। মাছ শূন্য ট্রলারগুলো ফেরায় লোকসানে ট্রলার মালিকরাও।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া; তাই সাগর থেকে একে একে ট্রলারগুলো ফিরছে উপকূলে। আর নোঙর করছে বাঁকখালী নদীর মোহনায়। প্রতিটি ট্রলারে রয়েছে ১২ থেকে ২৫ জন জেলে।
ট্রলারগুলো ঘাটে ভিড়লেও অনেক ট্রলারে নেই ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ। আবার অনেক ট্রলারের জেলেরা সাগরে ৩দিন জাল ফেলে পেয়েছেন মাত্র ২০ থেকে ৫০টি ইলিশ। তাই ট্রলারে বসে দুশ্চিন্তায় দিন পারছেন করছেন জেলেরা। তারা বলছেন, সাগর উত্তাল হওয়ায় ফের মাছ শিকার না করে ফিরতে হয়েছে উপকূলে।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের জেটিতে নোঙর করা মহেশখালী ট্রলার এফবি মায়ের দোয়ার জেলে সৈয়দ উল্লাহ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি মাসে ১৫ দিন ঘাটে বসা ছিলাম। এরপর আবহাওয়া পরিস্থিতি ভাল হলে ৩ লাখ টাকার মালামালসহ ফের ১৪ জন জেলে নিয়ে ১৭ আগস্ট সাগরে মাছ শিকারে যায়। কিন্তু সাগর বেশি উত্তাল, জাল ফেলেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিলো না। ২দিন জাল ফেলে পেয়েছি মাত্র ২০টি ইলিশ মাছ। আর ৩য় দিন সাগর উত্তাল থাকার কারণে কোনোভাবেই জাল ফেলা যাচ্ছিলো না। তাই শুক্রবার সকালে ঘাটে ফিরে এসেছি মাত্র ২০টি ইলিশ নিয়ে।
এফবি আল্লাহ দান ট্রলারে জেলে তৈয়ব বলেন, ১৮দিন ঘরে বেকার বসে ছিলাম। তারপর আবারও সাগরে মাছ শিকারে যায়। এখন সাগর আবারও উত্তাল হওয়ায় ঘাটে ফিরে এসেছি। মাত্র ৩ ইলিশ মাছ পেয়েছি। দুঃখ বিষয় আর কিছু বলার নেই।
আরেক জেলে ইয়াছিন বলেন, দুর্দশা যেন আমাদের পিছুই ছাড়ছে না। ৬৫ দিন বন্ধের পর সপ্তাহখানেক সাগরে মাছ পেয়েছিলাম। এরপর গরমে কারণে সাগরে আর মাছ পাওয়া যায়নি। এরপর গত ২ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগরে যেতে পারেনি। এখন সাগরে যেতে না যেতে আবারও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। তাই জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে উপকূলে ফিরে আসা। এমন অবস্থায় খুব কষ্টে দিনগুলো পার করছি।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সকালে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে দেখা যায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ট্রলারগুলো যখন উপকূলে ফিরছিল, তখন ট্রলার মালিকদের চোখ ছিল ট্রলারে। কিন্তু ট্রলার ঘাটে ভিড়লেও নেই দেখা নেই ইলিশের। এতে চরম হতাশ হয়ে পড়েন ট্রলার মালিকরা।
কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা। তার মালিকানাধীন ট্রলার রয়েছে ২০টি। তিনি বলেন, দুদিন আগে ২০টি ট্রলার সাগরে মাছ শিকারে যায়। প্রতিটি ট্রলারে তেল, খাদ্য, জেলেদের বেতনসহ খরচ পড়েছে ৩ লাখ টাকা। এখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এরই মধ্যে কক্সবাজার উপকূলে ফেরত এসেছে ৫টি ট্রলার। যার কোনটিতেই মাছ নেই। বাকি ১৫টি ট্রলার সাগর উত্তাল থাকার কারণে পটুয়াখালীতে নোঙর করেছে। অনেক লোকসানে আছি।
শহরের নুনিয়ারছড়ার আরেক ট্রলার মালিক আবু বক্কর বলেন, লোকসান দিতে দিতে আর পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে ট্রলার বিক্রি করে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে।
একে তো জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, তার ওপর বার বার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এতে দুর্দশা যেন পিছুই ছাড়ছে না বলে জানালেন জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতারা।
জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর বেশি উত্তাল। যার কারণে ট্রলারগুলো সাগরে মাছ শিকার না করে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দু’দিনে ৩ হাজার ট্রলার উপকূলে নোঙর করেছে। এ অবস্থায় এখন ট্রলার মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ী, মৎস্য শ্রমিক ও জেলেরা চরম দুর্দশা যাচ্ছে।
কক্সবাজারে নিবন্ধিত সাড়ে ৫ হাজারের বেশি নৌযান রয়েছে। লক্ষাধিকের বেশি জেলে থাকলেও এখন পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় ৬৩ হাজারের মতো জেলে।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে চিকিৎসক-নার্স

কক্সবাজারের কক্স ন্যাশনাল হসপিটালে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ...

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার সাবান

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২০) একটি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার সাবান উৎপাদিত হচ্ছে। ...

ইনানীতে অগ্নিকান্ড : ১০ মরদেহ শনাক্ত হলেও এখনো নিখোঁজ শিক্ষিকা

অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন মোট ...

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই হিমছড়িতে ইকো রিসোর্টের নামে হোটেল নির্মাণ

পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা ...

ইনানীতে বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

কক্সবাজারের ইনানীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ...