সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে এবার ৯টি হোটেলকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি।
জরিমানা করা হোটেলগুলো হলো–নীল দিগন্ত রিসোর্ট, লুই পাস হোটেল, সেন্ট ক্যাসল হোটেল, সূর্যস্নান হোটেল, হোটেল ফ্যান্টাসি, কোরাল হেডজ বীচ রিসোর্ট, হোটেল অবকাশ, আপ্যায়ন রেস্তোরাঁ ও দি আটলান্টিক হোটেল।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের মূল সৈকত এলাকায় প্লাস্টিক পোড়ানো, জেনারেটরের অতিরিক্ত শব্দ এবং অনিয়ন্ত্রিত আলোকসজ্জা-সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল কয়েকটি হোটেলের বিরুদ্ধে, যা সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রজনন ও স্বাভাবিক জীবনচক্রে গুরুতরভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রচণ্ড অবহেলা এবং কঠিন বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ, স্তূপীকৃত প্লাস্টিক পোড়ানো, উচ্চ শব্দে জেনারেটর ব্যবহার, রেস্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন ও হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ৯ হোটেলকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নাফিস ইনতেসার নাফি আরও বলেন, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এই দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুসংস্থান সুরক্ষা এবং এসব বিষয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখার লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে যেসব হোটেল ও প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনবিহীন বা লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে, কিংবা যেসব হোটেলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক ও যথোপযুক্ত নয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অভিযান আরও কয়েকদিন চলবে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারকে একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং ইকোলজিক্যালি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট