প্রকাশিত: ০৭/০১/২০১৮ ৮:১৩ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৮:২৪ এএম

জসিম মাহমুদ, টেকনাফ::
সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র রক্ষা করার জন্য দ্বীপে পাকা স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং দ্বীপে নির্মিত অবৈধভাবে গড়ে উঠা ১০৪টি আবাসিক হোটেল এক তলা থেকে তিন তলার ৩৮টি আবাসিক হোটল ভাঙার নির্দেশ দেন পরিবেশ অধিদপ্তর। নির্দেশনা মতে, সেন্টমার্টিনে ছোট কিংবা বড় কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। তার পরও সরকারের নির্দেশ অমান্য করে চলছে সেন্টমার্টিনে হোটেল লাবিবা বিলাসের তৃতীয় তলার ছাদের কাজ। এছাড়াও গড়ে উঠছে একের পর এক আরও অনেক স্থাপনা। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম পাড়া সীবিচে কোনা পাড়া এলাকায় অবস্থিত দোতলা বিলাসবহুল হোটেল লাবিবা বিলাস। খুব চিন্তার বিষয় হল হোটেল টির এক তলার ছাদ প্রায় অংশ কাঠের তৈরি,তার উপর ২য় তলা তৈরি করা হয়। কাঠ যাতে দেখা না যায় সে জন্য ভালো ভাবে ডেকোরেশন করা হয়। উপরে উঠে দেখা যায় হোটেলের তৃতীয় তলার ছাদের কাজ চলছে। এক তলার ছাদ প্রায় অংশ কাঠের তার উপর তৃতীয় তলার ছাদের কাজ কিভাবে হচ্ছে তা জানতে চাইলে কাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রী মোহাম্মদ আজিজ জানান তারা প্রতিদিন ১৫ জন শ্রমিক ভবন নির্মাণ কাজ করছেন। যাবতীয় নির্মাণসামগ্রী মালিক পক্ষ সব কিছু এনে দিচ্ছে কোথায় থেকে আনছে তাও আমরা কিছুই জানি না আমরা টাকা পাচ্ছি আর কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
হোটেলে সামনে দেখা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আলী মজুমদার তিনি বলেন আমি হোটেলের অবস্থা দেখে খুব চিন্তিত। একতলা ছাদে প্রায় অংশ কাঠে তার উপর কিভাবে তিনতলার ছাদের কাজ করছে। এইটিও রানা প্লাজার মত কোন দিন না একদিন ভেঙ্গে পড়ে আল্লাহ জানে। টাকাতো আর কম নেয় না এক রাত চার হাজার টাকা নিল। রাতে দেখি উপর থেকে পানি পড়ছে কক্ষের ভিতর ঘুমাতেও পারি নাই ভাল ভাবে। হোটেল পরিচালককে জানালে তিনি বলেন তৃতীয় তলা ছাদের কাজ চলছে তাই।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলেই রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সরকারি কিছু কর্মকর্তার একটি চক্রকে ম্যানেজ করতে হয়। তাদের যোগসাজশে প্রকাশ্যে টেকনাফ থেকে প্রায় নয় কিলোমিটারের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইট, লোহা, সিমেন্ট, বালুসহ যাবতীয় নির্মাণসামগ্রী পৌঁছে যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ম্যানেজ থাকায় এসব নির্মাণসামগ্রী নির্বিঘ্নে নির্মাণস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর কোনো বাধা ছাড়াই গড়ে উঠছে হোটেল, কটেজ ও রেস্তোরার। আবার অনেক সময় দ্বীপের তিন দিকে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক পাথর ব্যবহৃত হচ্ছে অবকাঠামো তৈরিতে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, পরিবেশগত কারণে নতুন কোন ভবন তৈরির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। শুনলাম কয়েকটি ভবনের কাজ চলছে সে গুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকে নোটিশ পাঠানো হবে। সেন্টমার্টিনে ৩৮টি আবাসিক হোটেল ভাঙার নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল করেছে হোটেল মালিক পক্ষ। আইনি লড়াই করে হোটেল ভাঙার নির্দশনা অপেক্ষা।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, সেন্টমার্টিনে ইট-সিমেন্ট-রডসহ নির্মাণসামগ্রী আনতে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগে। এ কারণে স্থানীয় লোকজন ঘর তৈরি করতে পারেন না। অথচ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানা কৌশলে ইট-সিমেন্ট নিয়ে আসছেন। প্রসাশনকে তারা ভয় করে না।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, সেন্টমার্টিনে নতুন কোন ভবন নির্মাণ করার ছাড়পত্র নেই। সেন্টমার্টিনে কোনা পাড়ায় লাবিবা বিলাস নামে একটি হোটেলের তৃতীয় তলার ছাদের কাজ চলছে নতুন করে শুনলাম। সরেজমিন পরিদর্শন যাব নির্মাণ কাজের সত্যতা পাওয়া গেলে হোটেল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরকে সহায়তা করবে ফ্রান্স

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ...
Single Page Footer