প্রকাশিত: ০১/০৭/২০২২ ৪:৩২ পিএম

মুহিববুল্লাহ মুহিব::

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বেঁচে ফিরলেও ক্যাম্পে আপন মানুষের নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না রোহিঙ্গা নারীরা। স্বামীর অত্যাচার, রোহিঙ্গা যুবকদের কাছে সম্ভ্রমহানী ঘটছে তরুণীদের। তাছাড়া নিজেদের মধ্যে খুনোখুনির সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এসব অপরাধ বন্ধে ৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) খুলেছে কন্ট্রোল রুম। একটি হটলাইন নাম্বার বদলে দিচ্ছে ক্যাম্প পরিস্থিতি।
ক্যাম্প নেতার দাবী, আশ্রয়ে এসেও রোহিঙ্গা নারীরা এখনো নিরাপদ নয়। তারা নির্যাতনের শিকার হন স্বামীর কাছে। আর তরুণীর সম্ভ্রম কেড়ে নেয় রোহিঙ্গা যুবক।
উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৯ এর হেড মাঝি আব্দুল আমি বলেন, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা নারীরা এখনো নিরাপদ নয়। বিভিন্ন সময় তাদের স্বামী বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদ বা অভ্যন্তরীণ দন্দ্বের ঘটনা বেড়েছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা তরুণীরা পড়ছেন যুবকদের হেনস্তায়।

তিনি আরও বলেন, এসমস্ত বিষয় নিয়ে যখন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল তখন আমরা এপিবিএনের কাছে যাই। ৮ এপিবিএন নতুন উদ্যোগ নেয় একটি হটলাইন নাম্বার এবং নারী ও শিশু সুরক্ষা ডেস্ক চালু করে। পাশাপাশি একটি নাম্বার সম্বলীত পোস্টার পুরো তিনটি ক্যাম্পে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যেখানে ফোন করে অভিযোগ করলেই তাৎক্ষণিক পুলিশ যাচ্ছে। মিলছে নিরাপত্তা ও সমাধান। এ উদ্যোগটি সাধারন রোহিঙ্গাদের মাঝে বেশ আলোচিত।
রোহিঙ্গাদের আরেক নেতা মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, এখন কিছুটা স্বস্তিতে আছেন নারীরা। ৯ থেকে ১৬ নং ক্যাম্পে তাদের নিরাপত্তা ও জীবন পাল্টে দিচ্ছে একটি ফোন নাম্বার। যেখানে ফোন করলেই মিলছে নিরাপত্তা ও সমাধান। এ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার দাবি জানাচ্ছি। এটিকে সাধারণ রোহিঙ্গারা গ্রহণ করেছে।
রোহিঙ্গা নেতাদের কথার সত্যতা মিললো, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কন্ট্রোল রুমে। এখানে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করছিলেন গৃহবধু ছবুরা খাতুন।
তিনি বলেন, স্বামী প্রতিদিনই আমাকে মারধর করে। কিন্তু বিচার চাইবো কার কাছে। পরে শুনি এপিবিএন একটি হেল্প ডেস্ক খুলেছে। সবার পরামর্শে সেখানকার নাম্বারে ফোন করি। পরে তাদের লোকজন আমাকে নিয়ে এসে বৈঠক করেছেন। বলেছেন স্বামীর সঙ্গে দন্দ্বের সমাধান করবেন।
ক্যাম্প ৮ ইস্টের শাবু বেগম। তিনিও এসেছেন কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে। জানতে চাইলে বলেন, আমার শেডের পাশের কয়েকজন যুবক দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করে আসছে। যা দেখে আমার বাবা-মাও খুব ভয়ে আছে। আমি এসেছি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে। আগে তো কাউকে বলতে পারতাম না। এখন তো বলার সুযোগ হয়েছে তাই বলছি।
৮ এপিবিএনের নারী-শিশু সুরক্ষা ডেস্কে দায়িত্বরত নারী পুলিশ সদস্য তসলিমা আক্তার বলেন, প্রতিদিনই কন্ট্রোল রুমে অভিযোগের ফোন আসে নারী নির্যাতনের। পারিবারিক এই কলহ কখনো উঠোন বৈঠক সমাধান হয়, কখনো আইনী ব্যবস্থা নেয়। অতি গুরুত্বপুর্ণ হলে তাৎক্ষণিক কট্রোল রুমকে জানাই। তারপর দ্রুত মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায়। ভিকটিমকে দ্রুত উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়া হয়।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসেন বলেন, তাদের আওতাধীন ক্যাম্প জুডে হটলাইন নাম্বার দেয়া আছে। শুধু নারীর প্রতি সহিংসতা নয়, ক্যাম্পের যেকোন অপরাধের খবর পান এই নাম্বারে।
তিনি বলেন, এসব অপরাধ ঠেকাতে ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনামূলক পোষ্টার ও হটলাইন নাম্বার সম্বলিত পোষ্টার লাগানো হয়েছে। যাতে তারা দ্রুত ফোন করতে পারেন।
এই কর্মকর্তার দাবী, একটি হটলাইন চালুর ফলে গেল বছর ফেব্রুয়ারী থেকে চলতি বছরের ২৮ জুন পর্যন্ত ১৯ লাখ ইয়াবা, অস্ত্র, ডাকাত ও সন্ত্রাসীসহ ৯৪৮ জন রোহিঙ্গা অপরাধীকে আটক করতে পেরেছেন তারা।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে চিকিৎসক-নার্স

কক্সবাজারের কক্স ন্যাশনাল হসপিটালে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ...

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার সাবান

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২০) একটি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার সাবান উৎপাদিত হচ্ছে। ...

ইনানীতে অগ্নিকান্ড : ১০ মরদেহ শনাক্ত হলেও এখনো নিখোঁজ শিক্ষিকা

অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন মোট ...

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই হিমছড়িতে ইকো রিসোর্টের নামে হোটেল নির্মাণ

পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা ...

ইনানীতে বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

কক্সবাজারের ইনানীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বাৎসরিক এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ...