প্রকাশিত: ১৯/০৯/২০১৭ ১১:৩২ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১:২০ পিএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
রাখাইনে থাকা যে সব শরণার্থী বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে গিয়েছে তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর নেত্রী অং সান সু চি। মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় সু চি বলেন, আমরা শান্তি চাই, ঐক্য চাই। যুদ্ধ চাই না। রাখাইন রাজ্য ছেড়ে রোহিঙ্গারা কেন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাও খুঁজে বের করা হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপে ভীত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এনএলডি নেত্রী আরও বলেন, আমরা সব মানুষের দুর্ভোগ গভীরভাবে অনুভব করি। রাখাইনে শান্তি, স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কাজ করছি। রাখাইনে বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় সব ধর্মের মানুষদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন সু চি।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অং সান সুচি জানান, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মুসলিমদের সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী।

পরিস্থিতি দেখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সু চি। এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে তাঁর সরকার কাজ করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও তল্লাশিচৌকিতে সন্ত্রাসী হামলা এই সংকটকে নতুন করে উসকে দেয়। এর জেরে সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়, চলে দমন-পীড়ন। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ আসছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত কয়েক সপ্তাহে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যেভাবে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সেটিকে ‘জাতিগত নির্মূলের’ সাথে তুলনা করেছে জাতিসংঘ।

কয়েকদিন আগে মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মিন অং হাইং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য মিয়ানমারের ভেতরে সবাইকে আহবান জানিয়েছেন।

সেনাবাহিনী মনে করে, রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গারা একটি শক্ত ঘাটি গড়ে তুলতে চাইছে। যদিও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা হয়না। সেনাবাহিনী এবং সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালী’ মনে করে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এ কথাও বলেছিলেন যে রোহিঙ্গারা কখনোই মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

পাঠকের মতামত

 

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন ...

আজানের ধ্বনি আমার খুব ভালো লেগেছে: আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

তুরস্ক সফরে দেশটির মুসলিম জনগণের সহনশীলতা, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ...

চীনের চালে কোণঠাসা মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা, তাহলে কি আবার জান্তারই জয় হচ্ছে

মিয়ানমারের গহিন জঙ্গলে বিপ্লবের লাল পতাকাকে স্যালুট দিচ্ছেন পিছু হটতে থাকা বিদ্রোহীরা। তাঁরা গণতন্ত্রের লড়াই ...

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা চরমে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিমান হামলা, আহত বহু

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক ...