
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন চায় হাঙ্গেরি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার সিজিজ্জার্তি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের অধিকার রয়েছে নিজ বাসস্থানে বসবাসের। হাঙ্গেরি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে বোঝাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে তা সমর্থন করে হাঙ্গেরি।
এর আগে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এরপরই যৌথ প্রেস বিফ্রিংয়ে অংশ নেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে হাঙ্গেরির মন্ত্রী বাংলাদেশে আসেন।
হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে কাজ করছে। হাঙ্গেরি ৮০ দশক থেকে এ নিয়ে কাজ করছে। আমরা এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের টেকনোলজি ব্যবহার করছি। আমরা জানতে পেরেছি, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন (রোসাটোম) কর্তৃক নির্মিত হচ্ছে।
হাঙ্গেরিতেও এই কোম্পানিই একাজে নিয়োজিত। এ বিষয়ে হাঙ্গেরির ৪০ বছর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই প্রতিবছর ৩০ জন বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারকে হাঙ্গেরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তার দেশের মেডিকেল সেবা বেশ উন্নত মানের। সেখানকার সুবিধা বাংলাদেশ নিতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বাংলাদেশে হাঙ্গেরির বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ১৮.৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে এবং জুলাই-মার্চ সময়ে আমদানি করেছে ১১.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাঙ্গেরি জয়েন্ট ট্রেড কমিশন গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রেরণ করবে।
এদিকে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনকে সে দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার ফেরেঙ্ক পুসকাসের স্বাক্ষরিত একটি ফুটবল উপহার দিয়েছেন।

পাঠকের মতামত