
কক্সবাজারের রামুতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চার সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাউয়াখোপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নাপিতার ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন— দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ রামু প্রতিনিধি মো. সাইদুজ্জামান সাঈদ, দৈনিক কক্সবাজার বার্তা ও প্যানোয়া নিউজ রামু প্রতিনিধি উচ্ছ্বাস বড়ুয়া, সিসিএন নিউজ রামু প্রতিনিধি মো. কাসেম এবং কোহেলিয়া টিভি রামু প্রতিনিধি সিরাজুল মোস্তফা আবির।
আহত সাংবাদিকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে কাউয়াখোপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসীভাবে ফসলি জমির টপসয়েল ও পাহাড়ের মাটি স্কেভেটর দিয়ে কেটে ডাম্পারযোগে পাচার করা হচ্ছিল। এতে এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত আব্দুল মালেক নিষেধ অমান্য করছেন— এমন অভিযোগের ভিত্তিতে চার সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ও ছবি ধারণ করছিলেন।
এ সময় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের উদ্দেশে ‘সব দুই টাকার সাংবাদিক’ বলে হামলার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে এবং মারধর করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে রামু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
ঘটনার পর আব্দুল মালেক ওরফে ‘ডাকাত মালেক’কে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে মিয়ানমার থেকে গরু চোরাচালান, ডাকাতি, হত্যা, সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা, ইয়াবা পাচার ও পাহাড় কাটাসহ ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউয়াখোপের নাপিতার ঘোনা এলাকার চিহ্নিত বালুদস্যু ও পাহাড়খেকো সন্ত্রাসী আব্দুল মালেক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা’র রামু উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সায়েদ জুয়েল বলেন, “যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে তারা দেশের ও জাতির শত্রু। সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির ইসলাম ভূইয়া বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি জেনেছি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি চৌধুরী বলেন, “মামলা হয়েছে, বিষয়টি থানা দেখছে। কোথাও মাটি কাটার তথ্য পেলে জানালে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।”
এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একটি সিন্ডিকেট নিয়মিত ফসলি জমির টপসয়েল ও পাহাড় কেটে পাচার করছে।

পাঠকের মতামত