প্রকাশিত: ২৫/০৮/২০১৭ ৭:১৬ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:৩৬ পিএম

ডেস্ক রিপোর্ট::
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির নেত্রী অং সান সু চি’র কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মিয়ানমার সরকারের দাবি, বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) রোহিঙ্গারা ২৪টি পুলিশ পোস্টে সমন্বিত হামলা চালানোর পাশাপাশি একটি সেনাঘাঁটিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষ হয়। নিহতদের মধ্যে রোহিঙ্গা, পুলিশ এবং সেনা সদস্যরা রয়েছেন।

সু চি-র দফতর থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আর ‘উগ্র বাঙালি সন্ত্রাসীদের’ ৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এমন ভাষায়ই রোহিঙ্গাদের অভিহিত করে থাকে বার্মিজ কর্তৃপক্ষ।

কয়েকটি এলাকায় এখনও সংঘর্ষ চলছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ২০১৬ সালের অক্টোবরে একই ধরনের হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাখাইন রাজ্যে বড় আকারের সামরিক অভিযান হয়েছিল। তখন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। তখন থেকে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। জাতিসংঘ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সামিল বলে উল্লেখ করে। চলতি মাসে রাথেটং শহরে নতুন করে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ এলাকায় রাখাইন ও রোহিঙ্গা দুই সম্প্রদায়েরই বসবাস। সে কারণে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আর তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘর্ষ হলো।

এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা একটি সামরিক ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী তাদের প্রতিহত করে। সেনাবাহিনী জানায়, বিদ্রোহীদের হামলা এবং পাল্টা অভিযানে এক সেনাসদস্য, ১০ পুলিশ সদস্য এবং ২১ বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। দুই সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক তিক্ততা চলে আসছে রাখাইন বৌদ্ধ ও রাজ্যটিতে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে। দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়, এমনকি দেশটির সরকার তাদের নৃতাত্ত্বিক স্বীকৃতিও দেয়নি। মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদীরা জোর দিয়ে বলে আসছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। তারা রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা’ না বলে ‘বাঙালি’ বলে থাকে। তিক্ততার ফলে ২০১২ সালে রাখাইনে ভয়াবহ মুসলিমবিরোধী সহিংসতা সংঘটিত হয়। এ সময় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

পাঠকের মতামত

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে মনোনয়ন দিতে চান ...

যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হিজবুল্লাহসহ নিজেদের অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে ...

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন ...
Single Page Footer