
এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকায় কেনা ব্যাটারিচালিত একটি রিকশা-ভ্যান বড় ছেলে শাহীনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে চালিয়ে সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছিলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলী মোড়ল। গত শুক্রবার ফোন করে ডেকে নিয়ে কে বা কারা শাহীনকে জখম (মাথায়) করে ভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহত শাহীন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক সজীব চন্দ্র সরকার জানান, শাহিনের মাথায় ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আঘাতে তার মাথার খুলি ভেঙে মস্তিষ্কে ঢুকে গেছে। অস্ত্রোপচার করতে হবে। প্রচুর রক্তপাতের কারণে তার সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
শাহীনের মা খাদিজা বেগম জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে একজনের ফোন পেয়ে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় ১৪ বছরের শাহীন। ওই দিন দুপুরের দিকে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ার এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। প্রথমে ভর্তি করা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।
চাচা মনসুর রহমান জানান, ছিনতাইকারীরা ভ্যানের সঙ্গে শাহীনের মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নিয়েছে।
পাটকেলঘাটা থানার ওসি রেজাউল হোসেন স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরের দিকে যশোরের কেশবপুরের একটি বাজার থেকে যাত্রীবেশী কয়েক দুর্বৃত্ত শাহীনের ভ্যানটি ভাড়া নেয়। শাহীন তাদের নিয়ে পাটকেলঘাটার ধানদিয়ার দিকে রওনা হয়। ধানদিয়া গ্রামের মাঠে ঢুকে একটি পাটক্ষেতের পাশে ওই দুর্বৃত্তরা শাহীনকে জখম করে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জহির রায়হান বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। যারা এ ঘটনায় জড়িত তারা পশু না হলে একটি শিশুর প্রতি এমন বর্বরতা চালিয়ে ভ্যান ছিনতাই করতে পারত না। তিনি জানান, এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকায় ভ্যানটি কেনা। বাবা-ছেলে দুই শিফটে ওই ভ্যানটি চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছিল। জীবিকার সেই শেষ সম্বলটিও নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি ছেলেটি বাঁচকে কি না না নিয়েও রয়েছে সংশয়।